অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের বাদ্যি। আর ভোট মানে তো গণতন্ত্রের উত্সব। নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকে রাজ্যজুড়ে ডিসিআরসি সেন্টার নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর আগেও অবশ্য পরিদর্শনের কয়েক ধাপ হয়ে গিয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবছরও ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার-রিসেপশন সেন্টার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাস (NBU Jalpaiguri Campus)। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। ক্যাম্পাসের ফাঁকা মাঠে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শৌচালয় থেকে ব্যালট গ্রহণের জায়গা। এতে রীতিমতো সমস্যায় পড়েছেন পড়ুয়ারা (Election Affect)৷ ১ এপ্রিল পরীক্ষা, কীভাবে প্র্যাকটিকাল করা যাবে তা নিয়ে সংশয়ে ভূগোল বিভাগের পড়ুয়ারা।
এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে ডিরেক্টর স্বপন রক্ষিতের বক্তব্য, ‘নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাস ও আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভবনের মোট ৮টি রুমে বর্তমানে পঠনপাঠন শুরু করেছি। প্রত্যেককে বলা হয়েছে আইকার্ড নিয়ে আসতে। পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে সমস্যা হলেও চেষ্টা করছি যথাসম্ভব ক্লাস করাতে।’
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে একদিকে যখন পড়ুয়াদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে একটা চাপা টেনশন কাজ করছে। তখনই দেখা গেল ক্যাম্পাসের একদিকে বাঁশ দিয়ে শৌচালয়, ব্যালট গ্রহণকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের নিয়ে নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটির চারটি রুমে ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপরতলার ৪টি রুমে ক্লাস চলছে। এবিষয়ে, দ্বিতীয় সিমেস্টারের ভূগোল বিভাগের পড়ুয়া সম্রাট বিশ্বাস বলছেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় সিমেস্টারের ক্লাস শুরু হলেও প্রথম সিমেস্টারের এখনও একটি পরীক্ষা বাকি। যা ১ এপ্রিলে হবে। হাতে তো সময় নেই। তার উপর জায়গা পরিবর্তন। প্র্যাকটিকাল ক্লাস করতে পারছি না। এখানে নেই কম্পিউটার ও প্রোজেক্টরের মাধ্যমে পঠনপাঠনের সুবিধাও। ভূগোল বিভাগের ক্লাসে এই ধরনের সুবিধা থাকলেও। নির্বাচনের জন্য ক্যাম্পাস নেওয়ায় পরীক্ষার আগে অনেক সুযোগসুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত।’ অন্যদিকে, সম্রাটের কথায় সহমত পোষণ করেন মন্দিরা দাস সহ অন্য পড়ুয়ারা।
এবিষয়ে ভূগোলের অধ্যাপক পুনামা সেনের প্রতিক্রিয়া, ‘চেষ্টা করেও প্র্যাকটিকাল ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাব যেই ভবনে, তা নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত হবে। ভূগোলে থিওরির সঙ্গে প্র্যাকটিকালটাও জরুরি।’
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে পড়ানো হয় বাংলা, ইংরেজি, ভূগোল ও সংস্কৃত। যার মধ্যে সংস্কৃত এনবিইউয়ের এই ক্যাম্পাসেই পড়ানো হয়। সংস্কৃতের পিএইচডি গবেষক দুর্যোধন সাহার বক্তব্য, ‘আমাদের গবেষণার কাজে ইন্টারনেট প্রয়োজন। কিন্তু ক্লাসরুম নির্বাচনে ব্যবহৃত হওয়ায় এখন ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত। গবেষণার জন্য ইন্টারনেট, কম্পিউটার যে কতটা জরুরি তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সবমিলিয়ে বলা যায়, গণতন্ত্র উৎসবে মেতে উঠতে গিয়ে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।
