NBSTC | ফ্রি বাসযাত্রায় হাতছাড়া নিগমের ‘লক্ষ্মী’, আগাম সিট বুকিং করেও যাচ্ছেন না অনেক মহিলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: কারও পৌষমাস, তো কারও সর্বনাশ! রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি বাসে মহিলাদের নিখরচায় যাতায়াতের সুবিধা চালু হয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের জন্য (NBSTC)। অনলাইন অ্যাপে বিনামূল্যে টিকিট বুক করার পর অনেক মহিলা যাত্রী শেষপর্যন্ত আর যাত্রা করছেন না। এদিকে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী টিকিট পাচ্ছেন না। ফলে একাধিক ফাঁকা আসন নিয়ে ডিপো ছাড়তে হচ্ছে সরকারি বাসগুলিকে, যা নিগমকে বড়সড়ো আর্থিক লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার বর্ধমান থেকে কলকাতাগামী ভলভো বাসের সব আসন বুকিং থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ১৬টি আসন ফাঁকা ছিল। গত ১৬ অগাস্ট কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী ভলবো বাসে ৪১টি আসন বুকিং থাকলেও ১৭টি আসন ফাঁকা গিয়েছে। একই পরিস্থিতি রাতের শিলিগুড়িগামী এসি বাসে। সেখানেও ৩০টি আসন বুকিং থাকলেও ১০ জন মহিলা টিকিট বুকিং করা সত্ত্বেও যাত্রা করেননি। ১৭ অগাস্ট ৫:৩০ মিনিটে কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী বাসেও ১২ জন মহিলা টিকিট কাটা সত্ত্বেও বাসে ওঠেননি।

কেবল দূরপাল্লার বাস নয়, কোচবিহার থেকে শিলিগুড়ি বা আলিপুরদুয়ারের মতো স্থানীয় রুটেও একই দৃশ্য। বাস ছাড়ার মুহূর্তে নিগমের কর্মীরা তালিকা দেখে যাত্রীদের ফোন করলেও সদুত্তর মিলছে না। অভিযোগ, কেউ ফোন কেটে দিচ্ছেন, কেউ আবার ‘ভুল করে টিকিট বুক হয়েছে’ বলে দায় সারছেন। আবার অনেকে সরাসরি যাত্রা বাতিলের কথাও জানাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য রিপোর্ট গিয়েছে নিগমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু সমাধান এখনও মেলেনি। এই সমস্যার সমাধান কীভাবে, তা বুঝতে পারছেন না নিগমের কর্তারাও। নিগমের এক কর্তার কথা, ‘এই প্রবণতায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এনবিএসটিসি-র।’

অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে কিছু মহিলা বিনামূল্যে টিকিট কাটার ফায়দা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। অ্যাপ থেকে একই আধার নম্বর ব্যবহার করে কেউ কেউ একদিনে তিনটে-চারটে বাসের আসন বুকিং করে রাখছেন। নিজেদের সুবিধামতো তাঁরা বাসে চড়লেও বাকি আসনগুলি বাতিল করার ঝামেলায় যাচ্ছেন না কেউ। ফলে বুকিং করা আসনে যাত্রী উঠবে ভেবে সেগুলিতে অন্য কোনও যাত্রীদের বসাতে পারছেন না কনডাক্টর। এই অবস্থায় জরুরি কাজে কলকাতা কিংবা বহরমপুরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বাস পুরো ভর্তি দেখানোয় সমস্যায় পড়ছেন অন্য যাত্রীরা।

মহিলা যাত্রীদের একাংশের মধ্যে যখন অনলাইনে একাধিক টিকিট বুকিং করে যাত্রা না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তখন মহিলাদের একাংশ আবার বিষয়টিকে একেবারেই সমর্থন করছেন না। নিত্যযাত্রী পিংকি দে বলেন, ‘সরকার আমাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা দিয়েছে। এর অপপ্রয়োগ করা উচিত নয়। অনেকেই প্রয়োজনে বাসে উঠতে পারছেন না সব টিকিট বুক থাকায়। প্রয়োজন না হলে সময়মতো টিকিট ক্যানসেল করে দিলে অন্য যাত্রীরা যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *