Nashik | ‘ভণ্ড’ জ্যোতিষীর লালসার শিকার ৫৮ জন! সম্মোহন ও ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ক্যাপ্টেন’

Nashik | ‘ভণ্ড’ জ্যোতিষীর লালসার শিকার ৫৮ জন! সম্মোহন ও ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘ক্যাপ্টেন’

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আধ্যাত্মিক শক্তির দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন মহিলাদের ওপর নারকীয় যৌন নির্যাতন। মহারাষ্ট্রের নাসিকের প্রভাবশালী জ্যোতিষী ৬৭ বছর বয়সী অশোক খরাতকে (Ashok Kharat) গ্রেপ্তার করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন’ (প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার) হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক ৩৫ বছর বয়সী মহিলাকে মাদক খাইয়ে ও সম্মোহন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই তালিকায় রয়েছেন অন্তত ৫৮ জন মহিলা।

অভিযুক্ত খরাতকে ধরতে পুলিশ এক নাটকীয় কৌশল অবলম্বন করে। নাসিকের ফার্মহাউসে গভীর রাতে হানা দিয়ে পুলিশ কর্মীরা চিৎকার করতে থাকেন “চোর, চোর!”। সেই হট্টগোলে বিভ্রান্ত হয়ে খরাত দরজা খুলতেই শোয়ার ঘর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। তল্লাশিতে তার ডেরা থেকে পিস্তল, কার্তুজ এবং ৫৮ জন মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সম্বলিত একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, নাসিকের কানাডা কর্নার এলাকায় ‘ওকাস প্রপার্টি ডিলারস’ (Oakus Property Sellers and Builders) নামে একটি অফিসের আড়ালে চলত এই অপরাধের কারবার।

  • সম্মোহন ও মাদক: মহিলাদের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের টোপ দিয়ে অফিসে ডেকে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাওয়ানো হতো।
  • অকাল্ট প্র্যাকটিস ও ভয়: সম্মোহন করার পর অভিযুক্ত তাদের ধর্ষণ করত এবং স্বামী বা পরিবারের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করত।
  • গোপন ক্যামেরা: অফিসে গোপন সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সেই অপকর্ম রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল করা হত।

অশোক খরাত কেবল একজন জ্যোতিষীই নন, তিনি শ্রী ঈশানেশ্বর মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। তার বিলাসবহুল রিট্রিটে বড় বড় নেতা, অভিনেতা ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। এই গ্রেপ্তারির পর রাজ্যের রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। উদ্ধব শিবিরের নেত্রী সুষমা আন্ধারে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে প্রশ্ন তুলেছেন, “যারা নারীদের শোষণ করে, তাদের কি এভাবে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত?”

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আইপিএস অফিসার তেজস্বিনী সাতপুতে-র নেতৃত্বে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। অভিযুক্তের সমস্ত সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *