Naresh Murmu Assertion Controversy | রাষ্ট্রপতির সভা নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন নরেশ মুর্মু! অভিযোগের তির এবার জেলা প্রশাসনের দিকে

Naresh Murmu Assertion Controversy | রাষ্ট্রপতির সভা নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন নরেশ মুর্মু! অভিযোগের তির এবার জেলা প্রশাসনের দিকে

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: রাষ্ট্রপতির শিলিগুড়ি সভা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতেই আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অবস্থান সটান বদলে গেল। রাজ্য সরকার তাঁদের সহযোগিতা করেনি বলে শনিবার সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সভাপতি নরেশ মুর্মু (Naresh Murmu Assertion Controversy) দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নরেশ দাবি করেন, জেলা প্রশাসন তাঁদের সহযোগিতা করেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) জানলে তাঁরা নিশ্চয়ই সহযোগিতা পেতেন বলে তিনি জানান। নরেশের এই দাবির পর সংশ্লিষ্ট মহলে হইচই শুরু হয়েছে। কী কারণে এই ভোল বদল বলে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানের পরেই এক লক্ষ টাকা অনুদান চেয়ে ওই সংগঠন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কাছে আবেদন জানায়। ভোল বদলের নেপথ্যে এটাই কি কারণ বলে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে, যারা সভামঞ্চ তৈরি করেছিল তাদের বিল এখনও মেটানো হয়নি বলে অভিযোগ। এর জেরে সংশ্লিষ্ট নির্মাণশ্রমিকরা সভাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এ প্রসঙ্গে নরেশের বক্তব্য, ‘জেলা প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। মুখ্যমন্ত্রী জানলে তারা নিশ্চয়ই সহযোগিতা করত।’ অন্যদিকে, শ্রমিকদের টাকা না দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘ওঁরা চারদিন বাদে বিল দিয়েছে। তাই টাকা দিইনি।’

গত শনিবার আদিবাসী সাঁওতাল কাউন্সিলের নবম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) শিলিগুড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর সভাস্থলে গ্রিন রুমে জলের কোনও ব্যবস্থাই ছিল না বলে অভিযোগ। তাঁর যাতায়াতের রাস্তায় আবর্জনা পড়ে ছিল। ইচ্ছে করে রাষ্ট্রপতির সভার জায়গা বারবার বদল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে খোদ রাষ্ট্রপতি সভামঞ্চ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিধাননগরে আগে যেখানে সভা হওয়ার কথা সেখানে তিনি নিজেই চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই গোটা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রাজনীতি শুরু হয়। গোটা বিষয় নিয়ে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধতে শুরু করে। পালটা, তাদের কোনও ভুল নেই বলে রাজ্য দাবি করে। এই চাপানউতোর চলাকালীনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়।

এদিকে, অনুষ্ঠানের পর থেকে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী সভাপতি নরেশ মুর্মু সহ বাকিদের সেভাবে দেখা মিলছিল না। বিতর্ক জোরদার হতেই নরেশ মঙ্গলবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানেই তিনি পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে দাবি করেন, রাজ্য সরকার নয়, জেলা প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঠিকমতো খবর পৌঁছানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। নরেশের এই দাবির পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, সভামঞ্চের কাছে বায়োটয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা তারাই করেছিল। পাশাপাশি, মাঠ পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল বলে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রোমা রেশমি এক্কা দাবি করেছিলেন। রোমার বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমি নিজে সেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছি। আমি সেখানে বায়োটয়লেট দিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার দু’দিন পরে সংগঠনের প্যাডে এক লক্ষ টাকা অনুদান চেয়ে নরেশ মুর্মু সভাধিপতির কাছে আবেদন করেছেন। রাজ্য যদি সহযোগিতা নাই করত তবে কেন রাজ্যের কাছে অনুদান চাওয়া হল?’ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য ছোটন কিস্কুকে ফোন করা হলে তাঁর বক্তব্য, ‘এই বিষয়ে যা বলার গৌতম দেব বলে দিয়েছিলেন। আমি আর কোনও মন্তব্য করব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *