নাগরাকাটা: কোথাও টানা পথ অবরোধ। কোথাও আবার কাজকর্ম ফেলে কয়েক ঘন্টার গেট মিটিং। রয়েছে কাজে যোগ না দিয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার ঘটনাও। রাজ্যের অ্যাডভাইজারির পরও কম হারের বোনাস দিতে চাওয়ায় এবছরও শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠছে ডুয়ার্সের নানা বাগান। এতে রয়েছে চামুর্চি, বানারহাট, গ্রাসমোড় এর মত বাগানগুলি।
অন্যদিকে বোনাস দূর অস্ত, বকেয়া মজুরি না দিয়ে রেড ব্যাংক ও সুরেন্দ্র নগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ চলে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন শ্রমিকরা। বানারহাটের বিডিও ও ধূপগুড়ির এসডিপিও গিয়ালসন লেপচা এসে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ৩ টে নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর জেরে জাতীয় সড়কে আটকে পড়ে অজস্র যান বাহন। সিকিম থেকে জয়গাঁ হয়ে ভুটানে বেড়াতে যাওয়ার পথে স্পেন এর বার্সিলোনার একটি পর্যটক পরিবারও অবরোধের কারণে সমস্যায় পড়েন। তাঁদেরকে হাসিমুখে অবরোধকারীদের সাথে রাস্তাতেও বসে পড়তে দেখা যায়। শ্রম দপ্তর জানিয়েছে রেড ব্যাংক নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। বানারহাটের বিডিও নিরঞ্জন বর্মন বলেন, রেড ব্যাংক চা বাগানে শনিবার থেকে ত্রাণ হিসেবে চাল দেওয়ার কাজ শুরু হবে। সমস্যা কাটাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
দীপাঞ্জলী থাপা সরকার নামে রেড ব্যাংকের এক শ্রমিক বলেন, ‘মজুরি চাইতে গেলে যদি এভাবে বাগানে অঘোষিত তালা ঝোলে তবে আমরা বাঁচবো কীভাবে? বোনাস তো বিশ বাঁও জলে। এক কর্মচারী সুশীল সরকার বলেন, ‘মজুরি দিতে শুধু তারিখ পে তারিখ দেওয়া হচ্ছিল। এদিকে বাগানের ঘরে ঘরে অভাব অনটন। বাধ্য হয়ে সবাইকে পথে নামতে হল।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রেই জানা গেছে, কাগজে কলমে রেড ব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগরের কর্ণধার সুশীল কুমার পাল। তবে তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে বাগান চালাচ্ছেন না। বর্তমানে যিনি চালাচ্ছিলেন তিনি বামনডাঙ্গা-টন্ডু ও সামসিং বাগানের কর্ণধার ঋত্ত্বিক ভট্টাচার্য। তিনি এদিনও বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনগুলি অনুরোধ করায় সবার মুখের দিকে তাকিয়ে কোনও কাগজপত্র ছাড়াই বাগান চালাচ্ছিলাম। এদিকে বাগানে প্রচুর বিনিয়োগ দরকার। কোন ভরসায় সেটা করবো। এটা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। আইনের দ্বারস্থ হব।’
এদিকে বোনাস ঘিরে জটিলতাকে কেন্দ্র করে বিপাকে পড়েছে শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রে্সের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি মহুয়া গোপ এদিন নাগরাকাটায়(Nagrakata) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন সরকারী অ্যাডভাইজারি মানতে হবে। প্রতিবারই দেখা যায় কয়েকটি বাগান এমনটা করে থাকে। যাই হোক সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। প্রশসন বৈঠক ডেকেছে। ওঁদের যদি কোন সমস্যা থাকে প্রশাষনকে জানাক। পালালে কিন্তু শ্রমিকরা ছাড়বে না। আমরাও ছাড়বো না।’
