নাগরাকাটা: চা বাগানের পর এবার বস্তি এলাকা। এবার চিতাবাঘ তুলে নিয়ে গেল এক নাবালককে। পরবর্তীতে ওই নাবালকের খোবলানো নিথর দেহ উদ্ধার হয়। বুধবার সন্ধ্যায় হাড়হিম করা মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নাগরাকাটা ব্লকের (Nagrakata) আংরাভাসা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খুটাবাড়িতে। এলাকাটি বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগান লাগোয়া। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, মৃত নাবালকের নাম মহম্মদ করিমুল হক (১২)। কলাবাড়ি টিই হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া সে। অনুমান করা হচ্ছে চিতাবাঘটি লাগোয়া কোন বাগান থেকেই এসেছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সন্ধ্যায় একটি চিতাবাঘ বাড়ির সামনে থেকেই ওই নাবালককে মুখে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ১০০ মিটার এগিয়ে রাস্তার লাগোয়া একটি বেগুন খেতে ঢুকে পড়ে। ওই দৃশ্য কয়েকজন দেখতে পাওয়া মাত্রই চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শুরু করলে বুনোটি নাবালকটিকে সেখানেই ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে তার রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়।
মৃত নাবালকের পরিবার অত্যন্ত দুঃস্থ। বাবা খলিল রহমান স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম। সংসার চালাতে দিনমজুরির কাজও করতে হয়। মা আমিনা খাতুন গৃহবধূ। সন্তানকে হারিয়ে ওই দম্পতি এদিন আর কথা বলার পরিস্থিতিতে ছিলেন না। এদিকে, খবর চাউর হতেই এলাকায় ভিড় জমান বহু মানুষ। ঘটনাস্থলে আসে বানারহাট থানার পুলিশ সহ বন দপ্তরের বিন্নাগুড়ি ও ডায়না রেঞ্জের কর্মীরা। আর এলাকায় আসতেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বন দপ্তরকে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমন ঘটনা যে ঘটবে তা কেউ কল্পনাতেও ভাবতে পারেনি। গোটা গ্রাম জুড়ে এখন শুধু শোক ও আতঙ্ক।’
নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর বলেন, ‘এই শোকের কোনও ভাষা নেই। দ্রুত পরিবারটির সঙ্গে দেখা করব। ওঁদের সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে।’
গরুমারা বন্যপ্রাণ ডিভিশনের এডিএফও রাজীব দে এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা পরিবারটির পাশে রয়েছি।’
