নাগরাকাটা: নাগরাকাটার চ্যাংমারি চা বাগানে গভীর রাতে শাবক প্রসব করল এক বুনো হাতি। দিনভর মা হাতি সহ সদ্যজাতকে আড়াল করে রাখল দলটির দুই সঙ্গী হাতি। এই বিরল দৃশ্য দেখতে শয়ে শয়ে উৎসুক জনতা ভিড় জমালেও, বুনোদের সতর্ক দলটি কিছুতেই একরত্তিকে প্রকাশ্যে আসতে দিল না। সারাদিন বাগানের একটি ঝোপের মধ্যেই তারা আশ্রয় নিয়ে থাকে।
বুধবার গভীর রাতে চ্যাংমারি চা বাগানে হাতিটি শাবক প্রসব করে। এলাকাটি ধরণিপুর চা বাগানের পানিঘাটা লাইন সংলগ্ন। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮টি হাতির একটি দল আমবাড়ি চা বাগান থেকে ডায়না নদী পেরিয়ে চ্যাংমারি চা বাগানে এসেছিল। বাকিরা ভোরে ফিরে গেলেও, সন্তানসম্ভবা হাতিটি প্রসবের পর আরও দুই সঙ্গী সহ সেখানেই রয়ে যায়। ভোরে টলমলে পায়ের শাবককে ঠেলে তারা লাগোয়া একটি ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একরত্তিকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমাতে শুরু করেন। কিন্তু বুনোদের আড়াল ভাঙা সম্ভব হয়নি।
ডায়না রেঞ্জের বনকর্মীরা সারাদিন ধরে এলাকাটিতে কড়া নজর রাখেন। তবে ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেওয়ায় তাঁরাও শাবকটিকে দেখতে পাননি। রেঞ্জার অশেষ পাল বলেন, “ঝোঁপের মধ্যে আশ্রয় নেওয়ায় খুদে সন্তানটিকে দেখা যায়নি। এমনকি অন্য হাতিগুলিও আড়ালে চলে যায়। আমাদের নজরদারি অব্যাহত ছিল।”
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায়, দিনভর কড়া পাহারা দেওয়ার পর রাতের দিকে মা হাতি ও তার দুই সঙ্গী ছানাটিকে নিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। দিনের আলোয় মানুষের ভিড় ও কোলাহল এড়াতে বুনো হাতির দলের এই সতর্কতা স্বভাবতই প্রশংসার দাবি রাখে। এই ঘটনা একদিকে যেমন চা বাগান সংলগ্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর আনাগোনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তেমনই সদ্যজাতকে নিয়ে হাতির দলের সতর্ক ও সম্মিলিত উদ্যোগ মন জয় করে নিয়েছে উৎসুক জনতার।
