নাগরাকাটা: অবশেষে দীর্ঘ ২০ দিনের উৎকণ্ঠার অবসান। সোমবার গভীর রাতে নাগরাকাটা ব্লকের কলাবাড়ি চা বাগানের ১৬ নম্বর সেকশনে বন দপ্তরের পেতে রাখা খাঁচায় ধরা পড়ল একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি চিতাবাঘ। গত ১৭ ডিসেম্বর এই বাগানেই এক শিশুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার পর থেকেই এলাকায় কার্যত ‘চক্রব্যূহ’ তৈরি করেছিল বন দপ্তর। চিতাবাঘটি ধরা পড়ায় বাগানের শ্রমিক মহল্লায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কাটছে না পুরোপুরি আতঙ্ক।
গত ১৭ ডিসেম্বর কলাবাড়ি বাগানের বাঁধ লাইনে ৫ বছরের শিশু প্রতিকা কুজুরকে উঠোন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল একটি চিতাবাঘ। স্থানীয়দের সাহসিকতায় সেবার শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের তরফে বাগানজুড়ে ৮টি খাঁচা পাতা হয়। সোমবার রাতে ছাগলের টোপ দেওয়া খাঁচায় পা দিতেই বন্দি হয় চিতাবাঘটি।
তথ্য বলছে, গত জুন মাস থেকে এই একটি বাগান থেকেই এপর্যন্ত ৬টি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। আর আশপাশের ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ধরলে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথ জানিয়েছেন,”ধরা পড়া চিতাবাঘটিকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় ফের খাঁচা পাতার প্রক্রিয়া চলবে।”
কলাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘের হামলা নতুন নয়। অতীতে আয়ুষ নাগার্চি (৩.৫ বছর), অস্মিত রায় ও মহম্মদ করিমুল হকের মতো নাবালকদের প্রাণ কেড়েছে চিতা। গত বছর খেরকাটা গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকেও প্রাণ হারাতে হয়েছিল। বারংবার চিতাবাঘ ধরা পড়লেও শ্রমিকদের দাবি, বাগানে এখনও একাধিক চিতা লুকিয়ে রয়েছে। ফলে স্বস্তি ফিরলেও কাজে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
