নাগরাকাটা: রোমান ক্যাথলিকদের শীর্ষ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস-এর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসলো উত্তরবঙ্গের খ্রীষ্ট সমাজেও। সোমবার ভ্যাটিকান সিটি থেকে পোপ-এর প্রয়াণের নিশ্চিত খবর পৌঁছনো মাত্রই উত্তরের নানা জেলার চার্চগুলিতে শুরু হয় বিশেষ প্রার্থনা। তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনায় আয়োজন করা হয় পবিত্র বাইবেল পাঠের। প্রভু যীশুর চরণে পোপের ফোটো রেখে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন চার্চে সমবেত হওয়া প্রত্যেকেই। মোমবাতি জ্বালানো হয় চার্চগুলিতে।
রোমান ক্যাথলিকদের উত্তরবঙ্গে মোট ৪ টি ধর্মপ্রান্ত বা ডাইসি রয়েছে। সেগুলি যথাক্রমে দার্জিলিং, বাগডোগরা, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জকে কেন্দ্র করে। প্রতিটি ধর্মপ্রান্তের আওতাধীন ছোট বড় সবকটি চার্চেই ছিল শোকঘন পরিবেশ। জলপাইগুড়ির ক্রাইস্ট দা রেডিমের ক্যাথিড্রাল-এর বিশপ ক্লেমেন্ট তিরকির ভিকার জেনারেল বা সহকারী ফাদার দয়া কিশোর বারোয়া বলেন, ‘প্রভু যাতে আমাদের এই দুঃসহ যন্ত্রণা সইতে পারার শক্তি প্রদান করেন সেই প্রার্থনাই তাঁর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।’ আগামী ১ মে ওই মহা চার্চের বিশপ পদে অভিষেক হতে চলেছে ফাদার ফেবিয়ান টোপ্পো-র। তিনিও এদিন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নাগরাকাটার চম্পাগুড়ির শতাব্দী প্রাচীন স্যাক্রেড হার্ট চার্চের ফাদার সমীর তিরকী বলেন, ‘এদিন সন্ধ্যার প্রার্থনার পর পোপের স্মৃতিতে মঙ্গলবারও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।’ ডুয়ার্সের আরেকটি প্রাচীন চার্চ মালবাজারের আওয়ার লেডি অফ রোজারির প্রবীণ সদস্য তেজকুমার টোপ্পো বলেন, ‘পোপের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। নর্থ বেঙ্গল অল ডুয়ার্স ক্রীশ্চান মাইনোরিটি অর্গানাইজেশনের সভাপতি সন্তোষ গুরুং বলেন, ‘এ আমাদের চরম দুঃখের মুহুর্ত।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রেই জানা যাচ্ছে, পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন লাটিন আমেরিকার। এরপর নয়া পোপ এশিয়া থেকে কেউ হতে পারেন। সেক্ষে্ত্রে দক্ষিণ ভারত, রাঁচি, দিল্লি, মুম্বই-এর মতো কোনও স্থানের কার্ডিনালদের কেউ রোমান ক্যাথলিকদের ওই সর্বোচ্চ আসনে বসবেন কিনা সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন অনেকে।
