নাগরাকাটা: নাগরাকাটা (Nagrakata) ব্লকের অন্তর্গত ছাড়টন্ডুর মেচপাড়ায় এলাকার একটি ছোট চা বাগান থেকে এদিন উদ্ধার হল একটি হাতির দেহ। হাতিটির বয়স আনুমানিক ৫ বছর। এদিন সন্ধ্যে পর্যন্ত হাতিটির লিঙ্গ পরিষ্কারভাবে বোঝা না গেলেও, বন দপ্তরের ধারণা মৃত হাতিটি স্ত্রী। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে যে, বজ্রপাতে (Lightning Strike) হাতিটির মৃত্যু (Elephant Demise) হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা যাবে বলে বনকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রেই জানা গেছে, রবিবার রাতে এলাকায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে একটানা বজ্রপাত হচ্ছিল। সেই সময় হাতির একটি পাল ছাড়টন্ডু এলাকায় ঢুকেছিল। স্থানীয়দের বক্তব্য, পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি হাতি পাশের একটি ছোট চা বাগানে চলে যায়। সে সময় বজ্রপাতের কবলে পড়েই বুনোটির মৃত্যু হয় বলে আশঙ্কা।
সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই চা বাগানে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু গ্রামবাসী এলাকায় ভিড় জমান। খবর পেয়ে বন দপ্তরের ডায়না ও খুনিয়া রেঞ্জের আধিকারিক ও কর্মীরা সেখানে পৌঁছন। যেস্থানে দেহটি পড়েছিল সেখানে ঢোকার রাস্তা না থাকায় মৃত হাতিটিকে উদ্ধার করতে বন দপ্তরকে বিস্তর অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। আর্থ মুভার ঢোকার জন্য রাস্তা তৈরি করে দেহ উদ্ধারে সন্ধ্যে ঘনিয়ে আসে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ডায়না টোলগেট বিটে পাঠানো হয় হাতিটির দেহ।
এই প্রসঙ্গে ওই চা বাগানের মালিক ভরত ছেত্রী বলেন, “এদিন সকাল ১০টা নাগাদ গাছে রাসায়নিক ছেটাতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাতিটিকে বসে থাকতে দেখি। ভয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে ফিরে আসি। বনদপ্তরকে খবর দিই। বনদপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে যে, হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে বনদপ্তর ও পরিবেশপ্রেমীরা জানিয়েছেন যে, বজ্রপাতের ফলে হাতি বা অন্য বুনোদের মৃত্যুর ঘটনা ডুয়ার্সে নতুন কিছু নয়। বছর তিনেক আগে বামনডাঙ্গা চা বাগানে বাজ পড়ে জোড়া হাতির মৃত্যু হয়েছিল। বাজ পড়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনার নজির রয়েছে জলদাপাড়ার জঙ্গলেও। বেশ কয়েক বছর আগে ডায়নার জঙ্গলে এভাবে একসাথে তিনটি বাইসন মারা যায়।

