নাগরাকাটা: বামনডাঙ্গা চা বাগানের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে গত বছরের ৬ অক্টোবর হামলার শিকার হতে হয়েছিল মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) সহ বিধায়ক শংকর ঘোষকে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর রবিবার সেই জায়গা (Nagrakata) থেকেই এক বিশাল মিছিল করল বিজেপি। টন্ডু (Tondu) বস্তী লাগোয়া টানাটানি সেতু থেকে শুরু হয়ে খয়েরবাড়ি, হাজিপাড়া হয়ে সুলকাপাড়ায় এসে মিছিলটি শেষ হয়। বিজেপি নেতাদের মতে এতে ১০ হাজারেরও বেশি সমর্থক অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ অক্টোবর ভোরে গাঠিয়া ও জলঢাকা জোড়া নদীর বিধ্বংসী বন্যায় বামনডাঙ্গা চা বাগানের মডেল ভিলেজের ১১ জন জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মারা যান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু ঘরবাড়ি। এরপর ৬ অক্টোবর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এক দল প্রতিনিধি বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। সে সময় টন্ডু সেতুর কাছে তাঁদের একাংশকে আটকানো হয়। সেই সময় সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিজেপি এই হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে। এবারের ভোটে বিজেপি ওই ইস্যুকে বারবার তাঁদের প্রচারেও তুলে ধরে। সেই সময়ের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নাগরাকাটায় এসে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ ছিল, ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্তদের ধরেনি। এর মধ্যে রাজ্যে বিজেপির ব্যাপক জয়ের পরপরই ওই মামলার ৮ মূল অভিযুক্ত জলপাইগুড়ি আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
রবিবার আয়োজিত এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপি জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভুজেল। জায়গায় জায়গায় বিজেপি সমর্থকরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি উল্লাশ প্রকাশ করেন। মিছিলটি যখন খয়েরবাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি লতিফুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছায়, তখন কিছু বিজেপি সমর্থক ডিজে বাজিয়ে নাচ শুরু করে দেয়। সাথে শ্লোগানও দিতে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ঘিরে ফেলেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা অবশ্য ঘটে নি।
উল্লেখ্য, এই লতিফুলকে ওই হামলার ঘটনার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করে বিজেপির বিভিন্ন নেতারা বারবার সরব হয়েছিলেন। এমনকি ভোটের ফল বের হওয়ার পর দলের রাজ্য সম্পাদক বাপী গোস্বামী আরো একবার লতিফুল এর উদ্দ্যেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে লতিফুল ইসলাম শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল আয়োজনের জন্য বিজেপি নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিল দেখেছি। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা যেভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন তা অন্য দলগুলোর জন্য শিক্ষণীয়। তিনি আরও বলেন, যেসব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাঁদের বাড়ি রাস্তার ধারে হওয়া সত্ত্বেও কোনও বিজেপি কর্মী ভাঙচুর বা হিংসাত্মক কাজ করে নি।
মিছিলে উপস্থিত বিধায়ক পুনা ভেংরা বলেন, যে স্থানে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শংকর ঘোষের উপর হামলা হয়েছিল সেই স্থান থেকেই মিছিল বের করে গণতান্ত্রিকভাবে তৃণমূলের অপশাসনের জবাব দেওয়া হয়েছে। মানুষ সেদিন সব দেখেছিল। তাঁরাই ভোটের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসকে যোগ্য জবাব দিয়েছে।
এদিনের মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে অমরনাথ ঝা, তন্ময় নার্জিনারী, সীমা কেরকেট্টা, অরুণ ওয়াইবা, সন্তোষ হাতি, ওম প্রকাশ রায়, শংকর ছেত্রী, বরুণ মিত্রর মত শীর্ষ নেতা নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
