উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : মেয়ের অপহরণের মামলা না তোলায় বিহারের মুঙ্গের জেলায় এক ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠল। নিহতের নাম সুবোধ যাদব (৪৫)। তিনি একটি ইটভাটায় নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, পুরোনো শত্রুতার জেরে এবং মামলা না তোলার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের পদস্থ আধিকারিক এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী ইটভাটার গার্ড রুমে চড়াও হয়, যেখানে সুবোধবাবু ঘুমোচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁর মাথায় পর পর দুটি গুলি করে। গুলির আওয়াজ শুনে ইটভাটার অন্য শ্রমিকরা যখন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন, ততক্ষণে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় খুনিরা। সুবোধের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে পুরোনো কোনও শত্রুতা। সুবোধবাবুর পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগে তাঁর মেয়ের একটি প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় দেওয়ান যাদব, তাঁর ছেলে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এমনকি খুনের ঠিক দু’দিন আগেও সুবোধবাবুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুঙ্গেরের পুলিশ সুপার (SP) সৈয়দ ইমরান মাসুদ নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের তদারকি করেন। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-র একটি দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে ইটভাটা চত্বরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ সুপার জানান, মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। নিহতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে।

