উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মুম্বইয়ের বুকে সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো সাজানো এক ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হেমলতা আদিত্য পটকর (৩৯) এবং আমরিনা ইকবাল জাভেরি (৩৩) নামে দুই নারীকে।
লিফট থেকে শুরু হওয়া নাটকের সূত্রপাত
ঘটনাটির সূত্রপাত হয় গত ১৫ নভেম্বর। সেদিন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী অরবিন্দ গোয়েলের ছেলে রিতম গোয়েলের বাগদান অনুষ্ঠান ছিল আম্বোলি এলাকার একটি হোটেলে। অনুষ্ঠান শেষে রাত ২:৪০ নাগাদ রিতম তাঁর বাগদত্তা ও বন্ধুদের নিয়ে হোটেলের লিফটে নামছিলেন। সেই সময় এক অপরিচিত নারী লিফটে প্রবেশ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, রিতম তাঁর দিকে লেজার লাইট ফেলেছেন। এই নিয়ে বচসা শুরু হয় এবং লিফট নিচে নামতেই ওই নারী চিৎকার করে লোক জড়ো করেন। পরে রিতমের বিরুদ্ধে আম্বোলি থানায় শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করা হয়।
১০ কোটি টাকার ‘সেটেলমেন্ট’ ও পুলিশের ফাঁদ
মামলা হওয়ার কয়েকদিন পরেই শুরু হয় আসল খেলা। মামলার রফা করার জন্য অরবিন্দ গোয়েলের কাছে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন হেমলতা পটকর। গত ২০ ডিসেম্বর আন্ধেরির একটি ক্যাফেতে দেখা করে তিনি হুমকি দেন যে, টাকা না দিলে রিতমকে সারা জীবন জেলে কাটাতে হবে এবং পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে।
দীর্ঘ দরকষাকষির পর ৫.৫ কোটি টাকায় রফা হয়। এরপরই ব্যবসায়ী অরবিন্দ পুলিশে খবর দেন। মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল লোয়ার পারেল এলাকায় একটি ফাঁদ পাতে। দেড় কোটি টাকার আসল ও নকল নোটের বান্ডিল নিয়ে দুই নারীকে ডাকা হয়। টাকা গ্রহণ করার সময় হাতেনাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পলাতক তৃতীয় অভিযুক্ত
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রে উৎকর্ষ নামে আরও এক ব্যক্তি জড়িত। বর্তমানে সে পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং এই চক্র এর আগে আর কতজনকে এভাবে ফাঁসিয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
