Muhammad Yunus | বিদায়বেলায় ‘ভারতবিরোধী’ সুর! সেভেন সিস্টার্স ও তিস্তা নিয়ে ইউনূসের মন্তব্যে তোলপাড়

Muhammad Yunus | বিদায়বেলায় ‘ভারতবিরোধী’ সুর! সেভেন সিস্টার্স ও তিস্তা নিয়ে ইউনূসের মন্তব্যে তোলপাড়

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় ভোটে বিএনপি-র বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। আর সেই মতো কার্যকাল শেষ হয়েছে সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। দেশের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ফেরাতে ব্যর্থতা এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর লাগাতার হামলার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েই শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নিলেন মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)। তবে বিদায়বেলায় নিজের ১৮ মাসের মেয়াদের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা স্বীকারের বদলে বেছে নিলেন কড়া জাতীয়তাবাদী ও ভূ-রাজনৈতিক উসকানির পথ। তাঁর বিদায়ী ভাষণে (Farewell Speech) ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা ‘সেভেন সিস্টার্স’ (Seven Sisters) এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য নয়াদিল্লির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভাষণের শুরু থেকেই ইউনূস দাবি করেন, বাংলাদেশ এখন আর কারও নির্দেশে চলে না এবং তাঁর শাসনামলে দেশ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে যখন তিনি নেপাল ও ভুটানের পাশাপাশি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক বলয় হিসেবে তুলে ধরেন। ভারতের নিজস্ব কানেক্টিভিটি প্রজেক্টের গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে তিনি কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন যে, সেভেন সিস্টার্সের ভবিষ্যৎ এখন থেকে বাংলাদেশের বন্দর ও কৌশলী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। শিলিগুড়ি করিডরের ঠিক পাশেই চিনা সহায়তায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং নীলফামারীতে চিনা হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে সামরিক আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ‘আগ্রাসন ঠেকানোর’ যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা ভারতের দিকেই ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ইউনূসের ভাষণে ছিল চরম উদাসীনতা। মন্দিরে ভাঙচুর, হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা এবং উগ্রপন্থীদের দাপট রুখতে তাঁর সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি এই নোবেলজয়ী। সমালোচকদের মতে, দেশের মাটিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে না পেরে, বিদায়লগ্নে ভারত-বিদ্বেষী কার্ড খেলে নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর এই প্ররোচনামূলক বিদায়ী বার্তা আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রসায়ন যে আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *