আসানসোল: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পুনরায় প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী মলয় ঘটককে (Moloy Ghatak)। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার এই আসনে জয়ী হওয়া মলয়বাবু এবার চতুর্থবারের লড়াইয়ে নামছেন। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর একদিকে যেমন তিনি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
এদিন মলয় ঘটক সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি চলছে। তাঁর দাবি, জেলায় প্রথম দফায় প্রায় ৪২,০০০ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩,০০০ মৃত এবং ১৩,০০০ ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছেন। কিন্তু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতির অজুহাতে প্রায় ২৮,০০০ প্রকৃত ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মলয়বাবুর অভিযোগ, নির্বাচনে জেতার জন্য মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ সব দেখছেন, তাঁরাই এর যোগ্য জবাব দেবেন।”
এসআইআর সহ একাধিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, “জনগণের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না।” ভোটারদের হেনস্থা করার প্রতিবাদে তিনি সরব হন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানান।
কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রে মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটককে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে মলয়বাবু স্পষ্ট জানান, “দলের মধ্যে সম্পর্কের কোনো গুরুত্ব নেই। প্রত্যেক প্রার্থীই কেবল দলের একজন প্রতিনিধি।” পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি আসনের প্রতিই তাঁর সমান দায়িত্ব রয়েছে এবং সব প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে তিনি পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপাবেন বলে জানান। রানিগঞ্জের প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডলের অভিজ্ঞতাও দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মলয় ঘটক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস জেলার নয়টি আসনেই জয়লাভ করবে। অন্যদিকে, বিজেপি গোটা রাজ্যে ৩০টি আসনের গণ্ডিও পার করতে পারবে না বলে তিনি রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
