বানারহাট: নতুন বছরের শুরুতে বড়সড় স্বস্তি ডুয়ার্সের চা বলয়ে। টানা দেড় মাস পরিচালকহীন অবস্থায় পড়ে থাকার পর আগামী শুক্রবার থেকে খুলে যাচ্ছে বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগান (Mogul kata Tea Backyard)। বুধবার জলপাইগুড়ির ডেপুটি লেবার কমিশনার শুভাগত গুপ্তর দপ্তরে এক দীর্ঘ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই জট খুলেছে। এর ফলে বাগানের প্রায় ১১০০ স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক পরিবারের অনিশ্চয়তা দূর হলো।
বকেয়া মজুরিকে কেন্দ্র করে গত ১৩ ডিসেম্বর বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পরিচালকরা। তারপর থেকে দফায় দফায় পাঁচবার বৈঠক হলেও কোনো সমাধান সূত্র বেরোয়নি। বুধবারের ষষ্ঠ দফার যৌথ আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ১৯টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী শনিবার শ্রমিকদের এক পাক্ষিকের বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের সাপ্তাহিক ছুটি বুধবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই বাগানে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হবে।
বাগানের কর্ণধার মহেন্দ্র বানসাল জানিয়েছেন, বাগান বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে। বাগান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি শ্রমিকদের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তোবারক আলি বলেন, “শ্রমিকদের ভুলে বাগান বন্ধ হয়নি। বকেয়া পাওনা নিয়ে খোঁজ নিতে গেলে পরিচালকরা চলে গিয়েছিলেন। তবে বৈঠকে মালিকপক্ষ সময়মতো পাওনা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন, আমরাও বাগান সচল রাখতে সবরকম সহযোগিতা করব।”
এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শ্রম কমিশনার রাতুল ভট্টাচার্য, বাগানের ম্যানেজার লালন বিশ্বকর্মা, চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম এবং ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের বানারহাট ব্লক সভাপতি জয়রাজ বিশ্বকর্মা সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব। শ্রম দপ্তরের এই সক্রিয় ভূমিকায় খুশি শ্রমিক মহল।
