Modi Trump Assembly G7 France | মোদি থাকলে পাশে থাকবে আমেরিকা, জি৭ সম্মেলনে বেজিংকে কড়া বার্তা দিয়ে ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের বড় বার্তা

Modi Trump Assembly G7 France | মোদি থাকলে পাশে থাকবে আমেরিকা, জি৭ সম্মেলনে বেজিংকে কড়া বার্তা দিয়ে ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের বড় বার্তা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ফ্রান্সে চলমান জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের (Modi Trump Assembly G7 France) পার্শ্ববৈঠকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন হলো। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিশেষ আমন্ত্রণে জি৭ সম্মেলনে যোগ দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় মুখোমুখি বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি ভারতকে এক বড়সড় সামরিক ও কূটনৈতিক আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প, যা বিশ্ব রাজনীতিতে, বিশেষ করে চিনের শিবিরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান যে, ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে যদি দেশের ওপর কোনো বহিঃশত্রুর হামলা হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির পাশে এসে দাঁড়াবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই আশ্বাসকে অত্যন্ত গভীর বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক চমৎকার। আর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কোনো জায়গা নেই।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় বয়ান, “ভারতের নেতা যদি মোদি হন, আর তাঁর নেতৃত্বে যদি সে দেশে হামলা হয়, তাহলে আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকা সাহায্য করতে পিছপা হবে না। তবে মোদি ছাড়া অন্য কেউ যদি নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।” একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসা করে তাঁকে “সুপুরুষ, খুব ভালো মানুষ এবং একেবারে দেবদূত” বলে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি ওমানে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আবহে মোদি হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন অঞ্চলে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুরোপুরি খুলে দেওয়া প্রয়োজন। সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাবিক হরমুজসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতিতে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা আমাদের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার।” পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন মোদি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি ও ট্রাম্পের এই বৈঠকটি দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেষবার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। তারপরের ১৬ মাসে দুই দেশের সম্পর্কে একাধিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

  • অপারেশন সিঁদুর: এই অভিযানের সময় ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির পুরো কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজের কাঁধে নেওয়ায় দিল্লির সাথে ওয়াশিংটনের দূরত্ব বাড়ে।
  • শুল্কবাণ ও ওমান বিতর্ক: মার্কিন ‘শুল্কবাণ’ এবং সম্প্রতি ওমানে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চাপা সংঘাত তৈরি হয়েছিল।

এই আবহে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ‘মোদি-প্রশস্তি’ এবং পাশে থাকার বার্তা আসলে পুরানো কূটনৈতিক ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *