বিপ্লব হালদার, গঙ্গারামপুর: জমজমাট বিয়ে বাড়িতে বাজছিল বাজনা। পাত পেড়ে খাচ্ছিলেন অভ্যাগতরা। অন্যদিকে ছাদনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে পাত্রপাত্রী বসে। সমস্ত আয়োজন প্রায় শেষ। মন্ত্রোচ্চাণের মধ্য দিয়ে চার হাত এক করানোর অপেক্ষায় পুরুতমশাই। কন্যাদানের দায়িত্বে কে, পুরোহিত একথা জানতে চাইতেই বিয়ের ছাঁদনাতলায় হাজির পুলিশ ও শক্তিবাহিনীর কর্মকর্তারা। তাঁদের নির্দেশ, বন্ধ করুন এই বিয়ে। মুহূর্তে বদলে গেল বিয়েবাড়ির আনন্দ। মধুরেণ সমাপয়েত আর হল না। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গঙ্গারামপুরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর (Gangarampur) এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর ৫ মাস বয়সি নাবালিকার সঙ্গে চব্বিশ বছরের এক তরুণের বিয়ে (Minor Marriage) ঠিক হয় কয়েক মাস আগে। দুই পক্ষের সহমতে শনিবার রাতে ছিল বিয়ে। ছঁাদনাতলায় পুরোহিতমশাই মন্ত্র উচ্চারণের পাশাপাশি হাঁক দিয়ে উঠলেন, কন্যাদান কে করবেন। ঠিক ওই সময় হাজির হন গঙ্গারামপুর থানার এসআই সঞ্জীব ভদ্র, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শক্তিবাহিনীর তরফে স্বরূপ বসাক।
পুলিশ কর্তারা জানিয়ে দেন বন্ধ করুন এ বিয়ে। মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যায় বাজনা। পালটে যায় আনন্দ। এমন কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন পুরোহিত থেকে বিয়ে বাড়ির লোকজন। পড়িমরি করে অর্ধেক খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়লেন বরযাত্রীরা। হাতজোড় করে আধিকারিকদের সামনে দাঁড়ালেন কনের বাবা। জানতে চাইলেন বিয়ে বন্ধ করার কারণ। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানিয়ে দিলেন,কনে নাবালিকা। তাই আইনত এই বিয়ে হবে না। অবশেষে পাত্রপাত্রী উভয় পক্ষের মুচলেকায় স্থগিত হয়ে যায় বিয়ে। পাত্রী সাবালিকা হওয়ার পর এই বিয়েতে কোনও আইনি সমস্যা থাকবে না বলে জানান পুলিশ ও চাইল্ডলাইনের আধিকারিকরা। অবশেষে বিয়ে করে কনে না নিয়েই বাড়ির পথ ধরেন বিধ্বস্ত বর সহ বরযাত্রীরা। এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শক্তিবাহিনীর কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমানের বক্তব্য, ‘রবিবার রাতে গঙ্গারামপুর থানা রাত ১০টা নাগাদ চাইল্ড হেল্প লাইনের মাধ্যমে নাবালিকার বিয়ের খবর জানা যায়। সে খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার (Gangarampur Police Station) পুলিশকর্মী সঞ্জীব ভদ্র ও জেলা শক্তিবাহিনীর তরফে স্বরূপ বসাক ছুটে যান।’
