শিলিগুড়ি: পেটে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিল এক নাবালিকা। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা যে তথ্য দিলেন, তাতে শিউরে উঠল পরিবার। জানা গেল, ওই নাবালিকা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা (Minor lady pregnant)। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ধ্রুব রায় (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে শিলিগুড়ি মহিলা থানার পুলিশ।
বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নাবালিকাকে নিয়ে যান তাঁর মা। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পরই বুঝতে পারেন বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। আলট্রাসনোগ্রাফি ও অন্যান্য পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই নাবালিকা প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি শিলিগুড়ি মহিলা থানায় জানানো হয়।
পুলিশের জেরায় নাবালিকা জানায়, ভোরের আলো থানা এলাকার বাসিন্দা ধ্রুব রায়ের সঙ্গে কিছুকাল আগে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন ও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধ্রুব ওই নাবালিকার সঙ্গে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ভয়ে ও লোকলজ্জার কারণে নাবালিকা বিষয়টি বাড়িতে জানায়নি। পেটের ব্যথা অসহ্য হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায় গোটা ঘটনা।
অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় হয় পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতেই ভোরের আলো থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধ্রুব রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবারই তাকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়।
নাবালিকার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে এই ঘটনাটি কিশোরী বয়সের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত জারি রেখেছে।
