বহরমপুর: আর মাত্র কদিন পরই খুশির ইদ। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পরিজনদের সঙ্গে উৎসবে শামিল হতে কর্ণাটক (Karnataka) থেকে বাড়ির পথ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) যুবক মহম্মদ নূর আলম। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সব আনন্দ নিমেষেই ফিকে হয়ে গেল। কর্ণাটকে নিজের কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এই পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant employee loss of life)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর (Jangipur) মহকুমার বোখরা এলাকার বাসিন্দা নূর আলম পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র কয়েক মাস আগে কর্ণাটকে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা, শারীরিক অক্ষম দাদা এবং সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী রয়েছেন। পরিবার সূত্রে খবর, নূর আলমের বিয়ে হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। তাই এবারের ইদ নিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বাড়তি উৎসাহ ছিল। বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ো ছিল তাঁর মধ্যে। সেইমত বাড়ি ফিরে আসার জন্য এদিন তাড়াহুড়ো করছিলেন তিনি। সেখানেই কাজ করার সময় বিপত্তি ঘটে।
নূর আলমের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছোতেই কান্নার রোল ওঠে। বৃদ্ধ বাবা-মা তাঁদের একমাত্র কর্মক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা। পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ইদের আনন্দ নিমেষেই এক গভীর হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে গোটা গ্রামে। বর্তমানে নূর আলমের নিথর দেহ কর্ণাটক থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইদের নতুন পোশাক আর খুশির বার্তার বদলে বোখরা এলাকায় নূর আলমের নিথর দেহ ফেরার খবরে এখন শোকের ছায়া।
