নয়ারহাট: বন ছেড়ে চিতাবাঘ ঢুকে পড়ল লোকালয়ে। চিতাবাঘের আক্রমণে (Leopard assault) জখম হয়েছেন এক তরুণী সহ ছ’জন। শনিবারের এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের (Mathabhanga) বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাতগাছি গ্রামে।
জানা গিয়েছে, চিতাবাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছেন প্রতিমা ডাকুয়া নামে এক তরুণী। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি পাঁচজনের চিকিৎসা চলছে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে। আহতরা হলেন বিনয় বর্মন, জীবন বর্মন, গিরিশ বর্মন, হরকান্ত রায় এবং দীনেশ বর্মন। আহতরা সকলেই একই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশেই জমিতে ধান কাটতে যান প্রতিমা। তখনই ধানখেতে লুকিয়ে থাকা চিতাবাঘটি তাঁকে আক্রমণ করে। মা ও মেয়ের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন লাঠি নিয়ে বুনোটিকে তাড়া করেন। পাশেই একটি বাড়িতে লুকিয়ে পড়ে চিতাবাঘটি। এরপর চিতাবাঘটি আরও পাঁচজনকে আক্রমণ করে।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ ও বন দপ্তরের কর্মীরা। চিতাবাঘটি একটি বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। এরপরই বনকর্মীরা বাড়িটির চারদিকে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেন। অবশেষে বিকেল ৪টে নাগাদ চিতাবাঘটি ধরা পড়ে। ঘুমপাড়ানি গুলি করে বুনোটিকে কাবু করা হয়। সেটিকে উদ্ধার করে বক্সা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে কোচবিহার বন দপ্তর সূত্রে খবর।
আহত তরুণীর এক আত্মীয় বলেন, ‘চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। তখন চিতাবাঘটি পাশের একটি বাড়িতে লুকিয়ে পড়ে। এধরনের ঘটনা এর আগে কোনওদিন এলাকায় ঘটেনি।’
