Mathabhanga | প্রফুল্লর মন্দিরে নমোই নমস্য

Mathabhanga | প্রফুল্লর মন্দিরে নমোই নমস্য

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


দেবাশিস দত্ত, পারডুবি: বাড়িতে শিব, কালী, মনসার মতো নানা দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে নজর কাড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মূর্তি। দেবতা হিসেবে তাঁকেই পুজো করেন মাথাভাঙ্গা–২ ব্লকের (Mathabhanga) পারডুবির প্রফুল্ল বর্মন। নৈবেদ্য হিসেবে এই বিজেপি সমর্থক নমোকে ফলমূল, লুচি, সুজি দেন। আর পরে সেসব খান। ভাত–রুটি বা বিরিয়ানি? মোদিপুজো শুরুর পর থেকে প্রফুল্ল সেসব হেলায় ছেড়েছুড়ে দিয়েছেন। দেশজুড়ে বহু মোদিভক্ত রয়েছেন। কিন্তু এভাবে তাঁর মূর্তি বানিয়ে আরাধনা? হয়তো এমন নজির নেই।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির ৭৫তম জন্মদিন ছিল। প্রফুল্ল সেদিন ৭৫ কেজি ওজনের কেক বানিয়ে প্রিয় মানুষটির জন্মদিন পালন করেছিলেন। মাথাভাঙ্গার বিধায়ক সুশীল বর্মন ও শীতলকুচির বিধায়ক বরেন বর্মনের উপস্থিতিতে সেই উদযাপনপর্ব ছিল রীতিমতো জমকালো। ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর জন্য সেনাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারডুবি বাজার সহ বেশকিছু এলাকায় মোদির মূর্তি নিয়ে তিরঙ্গা যাত্রা করা হয়েছিল। প্রফুল্লর বাড়িতে নবনির্মিত পাকা দেওয়াল ও টিনের চালার মন্দিরে সেদিনই মোদির মূর্তি বসানো হয়েছিল। আর তারপর থেকেই তাঁর অভিনব মোদিপুজো শুরু। যা নিয়ে এলাকায় তো বটেই, আশপাশেও ব্যাপক চর্চা রয়েছে।

প্রত্যন্ত এলাকার প্রফুল্লর বাড়িতে রোজ শিব, কালী, মনসা, চণ্ডীবুড়ির মতো নানা দেবদেবীর পুজো হয়। পাশাপাশি, প্রদীপ, ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ফুল, ফল, লুচি, সুজি নিবেদন করে প্রতিদিন সকাল–সন্ধ্যা মোদিপুজোও চলে। শুরুর দিন থেকে একদিনও এই নিয়মের অন্যথা হয়নি। প্রফুল্লর কথায়, ‘আমার কাছে নরেন্দ্র মোদি শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, বরং ঈশ্বরের প্রতিরূপ।’ আরাধ্য এই দেবতাকে খাবার হিসেবে প্রফুল্ল যা নিবেদন করেন সেটাই নিজে সকাল–সন্ধ্যায় খান। ভাত, রুটি খান না। প্রধানমন্ত্রী যেদিন তাঁর বাড়িতে আসবেন সেদিন তঁার সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি ভাত ও রুটি খাওয়া শুরু করবেন বলে প্রফুল্ল ঠিক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার উন্নয়নের দাবিও জানাবেন। মাথাভাঙ্গা–ফালাকাটা রাজ্য সড়ক থেকে প্রফুল্লর বাড়ির দূরত্ব ৯০ মিটার। মোদি পারডুবিতে এলে এই রাস্তায় লাল গোলাপ পেতে তিনি নিজের আরাধ্য দেবতাকে স্বাগত জানাবেন বলে ঠিক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কোনও সভায় এলে সেখানে তাঁর সঙ্গে প্রফুল্লকে দেখা করানোর চেষ্টা করানো হবে বলে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রতাপ সরকার, নিশিগঞ্জের বিজেপি নেতা তথা জেলা কমিটির সদস্য উত্তম শীল তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রফুল্ল ২০০৫ সালে ভোটাধিকার পান। সেই সময় থেকেই তিনি বিজেপির সমর্থক বলে দাবি করেন। ৪৬ বছর বয়সি মানুষটি রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেন। দুই ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে সংসার। মোদিপুজোয় পরিবার সর্বতোভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। স্ত্রী জিরোবালা বর্মনের কথায়, ‘এই পুজো করবেন বলে স্বামীর বহুদিনের ইচ্ছে ছিল। সেটা পূরণ হওয়ায় ভালো লাগছে।’ মা টুনটুনি বর্মনের অবশ্য আশঙ্কা, ‘ও পুজো করছে করুক। কিন্তু ভাত–রুটি খাওয়া ছেড়ে দেওয়াটা বোধহয় ঠিক নয়।’ পারডুবি নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মহেশ রায়ও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। মন্দির চত্বরে কোনও প্রণামি বাক্স না রাখা হলেও  স্থানীয়রা মোদির মূর্তি ও মন্দির দর্শনে এসে তাঁর পুজো করার জন্য আর্থিক সহায়তা ও পুজোর উপকরণ দিয়ে সাহায্য করেন। সুজিত বর্মন, জ্যোৎস্না বর্মনরা এই পুজোর বিষয়ে তাঁদের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন। প্রফুল্ল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ‘যতদিন বাঁচব, প্রতিদিন মোদিকে পুজো ও প্রণাম করে দিন শুরু করব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *