উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেরলে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই কংগ্রেসের অন্দরে যেন বোমা ফাটালেন দলেরই বর্ষীয়ান নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার (Mani Shankar Aiyar)। দলকে অস্বস্তিতে ফেলে তাঁর সাফ ঘোষণা, “আমি নেহরুভিয়ান, আমি রাজীবপন্থী, কিন্তু আমি রাহুলপন্থী নই (Not a Rahulian)।” শুধু রাহুল গান্ধিকে অস্বীকার করাই নয়, কেরলের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বাম নেতা পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে আইয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন—বিজয়নই হ্যাটট্রিক করে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন।
কংগ্রেস যখন কেরলে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বামদের বিরুদ্ধে কোমর বাঁধছে, তখন দলেরই এক শীর্ষ নেতার মুখে প্রতিপক্ষের জয়গান নির্বাচনী প্রচারের অভিমুখটাই বদলে দিয়েছে। যদিও বিতর্কের মুখে পড়ে আইয়ার শর্তসাপেক্ষে মন্তব্য ফেরানোর কথা বলেছেন। তাঁর অদ্ভুত শর্ত, “যদি ভিডি সতীশনকে (VD Satheesan) পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়, তবেই আমি বিজয়ন সম্পর্কে আমার মন্তব্য ফিরিয়ে নেব।”
দলীয় নেতৃত্বে ফাটল ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
আইয়ারের তোপ থেকে বাদ পড়েননি দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল (KC Venugopal) এবং সাংসদ শশী থারুরও (Shashi Tharoor)। বেনুগোপাল আইয়ারের মন্তব্যকে “ব্যক্তিগত মত” বলে এড়িয়ে যেতে চাইলে, পাল্টা আক্রমণে আইয়ার বেনুগোপালকে সর্দার প্যাটেলের মতো ব্যক্তিত্বের আসনে বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি শশী থারুরকে “নীতিহীন সুবিধাবাদী” (unprincipled careerist) বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর দাবি, থারুর এখন মোদীর বিদেশমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও ‘গোপন আঁতাত‘ তত্ত্ব
এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি কে. আন্নামালাই (Okay. Annamalai) একে কংগ্রেস ও বামেদের মধ্যে “গোপন বোঝাপড়া” (underhanded deal) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস জানে তারা জিতবে না, তাই বামেদের সুবিধা করে দিতেই এই নাটক।
অতীতের বিতর্ক ও বর্তমান অবস্থান
নিজেকে সোনিয়া গান্ধির ভাষায় ‘লুজ ক্যানন’ (unfastened cannon) বলে স্বীকার করে নিয়েও আইয়ার দাবি করেছেন, তিনি কংগ্রেসেই আছেন এবং কংগ্রেসেই থাকবেন। তবে বিতর্ক উসকে দিয়ে তিনি পিভি নরসিমা রাওকে ‘প্রথম বিজেপি প্রধানমন্ত্রী’ এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারকে “শেষ কংগ্রেস সরকার” বলে অভিহিত করেন।
কেরল নির্বাচনের প্রাক্কালে আইয়ারের এই মন্তব্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংহতিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দল যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ার চেষ্টা করছে, তখন ঘরের শত্রুর এই আক্রমণ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
