১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ রাজ কৌশলের সঙ্গে বৈবাহিকবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা মন্দিরা বেদী। মাত্র পঞ্চাশে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজের মৃত্যুতে অকালেই শেষ হয়ে যায় দু’দশকের সুখী দাম্পত্য। ২০২১ সালে স্বামীকে হারানো পর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। আজও রাজের কথা বলতে গেলে চোখের জল যেন বাধ সাধে না। সম্প্রতি মন্দিরা বেদী তাঁর আসন্ন ছবি ‘ম্যাক্স মিন অ্যান্ড মেয়োজাকি’র ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে স্বামীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন।
শুধু তাই নয়, কথা বলার সময় শব্দগুলো যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসছিল! চোখের জল মুছে কোনওক্রমে নিজেকে সামলে আবার হাসিমুখে কথা বলেছেন মন্দিরা। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল মন্দিরা বেদীর সেই আবেগঘন মুহূর্ত। রাজকে ছাড়া জীবন কাটানো তাঁর কাছে কতটা বেদনাদায়ক, স্বামীর মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে কতটা কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতা নিজেই ভাগ করেছেন মন্দিরা। আর ঠিক সেই সময়ই দুগাল বেয়ে অবিরাম অশ্রুধারা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে থেরাপির সাহায্য নিতে হয়েছিল মন্দিরাকে।
আরও পড়ুন:

তাঁর জীবনে থেরাপি বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। থেরাপির গুরুত্ব প্রসঙ্গে মন্দিরা জানান, “থেরাপি, কাউন্সেলিং এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা-এসব বহু বছর ধরেই আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ২০ বছর আগে প্রথমবার থেরাপিতে গিয়েছিলাম। যখন মাকে বলেছিলাম যে আমি থেরাপি সেশনে গিয়েছি তখন জিজ্ঞেস করেছিলেন কী হয়েছে? আমি বলেছিলাম, আমার মনের যা অবস্থা তা বর্হিপ্রকাশের প্রয়োজন ছিল। তখন মা বলেছিলেন আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতে। কিন্তু আমি বলেছিলাম, না।”

জীবনের যখনই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করেছেন বা মনে হয়েছে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না তখনই তিনি পেশাদার থেরাপিস্ট ও কাউন্সেলরের সাহায্য নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যখনই মনে হয়েছে আমার জীবন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে তখনই আমি থেরাপিস্ট ও কাউন্সেলরের কাছে ছুটে গিয়েছি। আর এই সিদ্ধান্তে আমি উপকৃত। স্বামীকে হারানোর পর থেরাপিই আমার কাছে সুস্থ হয়ে ওঠার একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল। তাই তখনও আমি থেরাপির শরণাপন্ন হয়েছিলাম।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
