উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে রেড রোডে টানা ৫ দিন ধরে চলা ধর্না (Mamata Banerjee Dharna) কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকা সংশোধনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল নেত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে সন্তোষ প্রকাশ করে রাজপথের লড়াই থেকে আপাতত বিরতি নিলেন তিনি।
ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিদি, আজ আপনার লড়াইয়ের জয় হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত আপনার দাবিকে মান্যতা দিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। আদালতের এই নির্দেশকে ‘মানুষের জয়’ হিসেবে অভিহিত করে অভিষেক বলেন, “বাংলার এই মামলাটি এখন একটি ‘স্পেশাল কেস’ (Particular Case Bengal)। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলেও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি বজায় থাকবে। যে দরজা কমিশন বন্ধ করতে চেয়েছিল, আদালত তা খুলে দিয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি আক্রমণ শানান কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ওপর। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে কমিশন বিচারকদের ভুল বুঝিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের নাম বেআইনিভাবে কাটা হয়েছে, তাঁরা এখন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি পিটিশন করেছিলাম, আজ তার মর্যাদা রক্ষা হয়েছে।” লোকসভা নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ব্রিগেডের সভার পর ভোট ঘোষণা হলেও চিন্তার কারণ নেই, কারণ পুরো প্রক্রিয়া এখন আদালতের স্ক্যানারে।
শুধু কমিশন নয়, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং বিজেপি সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল এনে তেলকড়ি মাখাতে হবে না। প্রতিদিন মিথ্যা বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ আনার দাবি তুলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘আগামী দিন গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর।’ টানা পাঁচ দিন রাজপথে থাকার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন মমতা। ২৫ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইনি এই রক্ষা কবচ ভোট ময়দানে তাঁদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
