উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শিলিগুড়ির সাঁওতাল কনফারেন্সে রাষ্ট্রপতির আক্ষেপ ছিল, তাঁর ‘ছোট বোন’ মমতা কেন তাঁকে স্বাগত জানাতে এলেন না (Protocol Violation)? পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছিলেন সভাস্থলের জায়গা বদল নিয়েও। রবিবার ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তার কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। মমতা স্পষ্ট জানান, ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার তাগিদে তিনি আন্দোলনে বসে আছেন, তাই প্রটোকল পালন করতে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এরপরই একটি পুরনো ছবি দেখান মমতা। যেখানে দেখা যাচ্ছে, লালকৃষ্ণ আডবাণী ও নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বসে আছেন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পাশে দাঁড়িয়ে। ছবি উঁচিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “দেশের এক নম্বর নাগরিককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আর মোদীজি বসে থাকেন? আসল সম্মান কে দেয়, তা দেশ দেখছে।” একই সুরে মথুরাপুরের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির ‘আদিবাসী প্রেম’-কে নাটক বলে কটাক্ষ করেন।
দিল্লির মঞ্চ থেকে মোদীর ‘গর্জন’
অন্যদিকে, দিল্লিতে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ঘটনাকে বাংলার সরকারের ‘অহঙ্কার’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতিকে বর্জন করা মানে দেশের সংবিধান এবং সামগ্রিক আদিবাসী সমাজকে অপমান করা। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অহঙ্কারে ডুবে থাকা শক্তি যত বড়ই হোক, একদিন তার পতন নিশ্চিত। বাংলার মানুষ এই জঘন্য রাজনীতি ক্ষমা করবে না।”
সংঘাতের কেন্দ্রে ‘SIR’ ইস্যু
তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার এই ‘SIR’ (Particular Intensive Revision) প্রক্রিয়া আসলে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এই লড়াই ছেড়ে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব ছিল না বলেই সাফাই জোড়াফুল শিবিরের। ফলে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক বিতর্ক এখন পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
