উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের আবহে কি প্রশাসনের রাশ আরও শক্ত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী? সোমবার নবান্নের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেই জল্পনাই উস্কে দিল। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি মলয় ঘটকের হাত থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘আইন দপ্তর’ সরিয়ে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হল বাবুল সুপ্রিয়কেও। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরই আপাতত নিজের অধীনে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আইন দপ্তরে বদল: কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
রাজ্য রাজনীতির অন্দরে মলয় ঘটক এবং আইন দপ্তর ছিল সমার্থক। কিন্তু সোমবারের নির্দেশে সেই সমীকরণে যতি পড়ল।
• মলয় ঘটকের ভূমিকা: এখন থেকে তিনি শুধুমাত্র শ্রম দপ্তর সামলাবেন।
• মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ: আইন দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিজের হাতে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, বিচারবিভাগীয় ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে তিনি সরাসরি তদারকি করতে চান।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের একাধিক আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক জটিলতার আবহে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।
বাবুল সুপ্রিয়র বিদায় ও সংসদীয় বাধ্যবাধকতা
তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে বাবুল সুপ্রিয়র পারফরম্যান্স নজরকাড়া হলেও, প্রযুক্তিগত কারণে তাঁকে এই দায়িত্ব ছাড়তে হলো।
1. রাজ্যসভায় নির্বাচন: সম্প্রতি বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।
2. আইনি নিয়ম: সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে সাংসদ পদ এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব বা লাভজনক পদে থাকতে পারেন না।
3. স্থলাভিষিক্ত মুখ্যমন্ত্রী: বাবুলের ছেড়ে যাওয়া এই দপ্তরটিও আপাতত মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছেই রেখেছেন।
প্রশাসনের অন্দরে নতুন সমীকরণ
নবান্ন সূত্রে খবর, এই রদবদল সাময়িক হতে পারে। সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাজে আরও গতি আনতে এবং সরাসরি তদারকি বাড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শীঘ্রই পোর্টফোলিওগুলির পুনর্বণ্টন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।
