রামপুরহাট: এক লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান হাতে পেয়েও প্রতিমা গড়ে পুজো করা সম্ভব হলো না! বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের তলোয়া গ্রামের শান্তি কমিটি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিতে ঘট পুজো (Mallarpur Ghat Puja) সারার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। শেষ মুহূর্তে অনুদান মেলায় প্রতিমা গড়ার সময় পাওয়া যায়নি বলে দাবি পুজো কমিটির। অন্যদিকে, এই অনুদান দেওয়া নিয়ে কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
বীরভূমের মল্লারপুর থানার তালোয়া গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের একসময় বিপুল জমিদারি ছিল। সেই সূত্রে প্রায় পাঁচশো বছর ধরে ওই পরিবারে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপুজো হয়ে আসছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে জমিদারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হলেও পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণ মেলেনি। এর জেরে আর্থিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়ে বিশ্বাস পরিবার। পুজো চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রায় অর্ধশতবর্ষ ধরে বন্ধ ছিল বড় করে পুজো।
অবশেষে বছর পাঁচেক আগে গ্রামের মানুষের গঠিত ‘শান্তি কমিটি’-র হাতে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন বিশ্বাস পরিবারের অন্যতম সদস্য দুর্গাদাস বিশ্বাস। এর পর থেকেই শান্তি কমিটি সার্বজনীনভাবে পুজোর দায়িত্ব নিলেও আর্থিক অভাবে প্রতিমা গড়ে পুজো করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রতি বছর চাঁদা তুলে ঘট পুজো করেই প্রাচীন এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখে আসছেন গ্রামবাসীরা।
শান্তি কমিটির সভাপতি সুমন্ত মণ্ডল জানান, পুজোর জন্য বহুবার সরকারি অনুদানের আবেদন করা হলেও এর আগে কোনো সাহায্য মেলেনি। এবারও অনুদান পাওয়ার কোনো নিশ্চিত খবর ছিল না। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজ্য সরকারের দেওয়া এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান হাতে এসে পৌঁছায়। তবে ততদিনে প্রতিমা গড়ার সময় বা পরিকাঠামো কিছুই ছিল না। তাই এবছরও বাধ্য হয়ে ঘট পুজোই করতে হয়েছে। তবে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুদানের টাকা ও গ্রামের সহযোগিতায় আগামী বছর থেকেই মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পুজো করা হবে।
সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রতিমা না থাকলেও পুজোর মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি পুজো প্রাঙ্গণের ব্যানারে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।
এদিকে মূর্তি না গড়ে কেবল ঘট পুজো করা একটি কমিটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি জয়শংকর সিনহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও আমাদের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নিলেও কোথাও একটা ভুলভ্রান্তি হয়েছে। যার জন্য এই ধরনের পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও কঠোরভাবে এগুলো বাছাই করে প্রকৃত যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদেরকেই এই অনুদান দেওয়া উচিত। প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছি।”
প্রতিমা ছাড়া শুধু ঘট পুজোয় সরকারি অনুদান পাওয়া এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের তলোয়া গ্রাম।

