আজাদ, মানিকচক: এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে স্বর্ণপদক জয়ের পর স্থায়ী চাকরির দাবি উঠেছিল। জ্যাভলিন থ্রো-এ বাইশটি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছিলেন প্রান্তিক এলাকার মেয়ে নাইমা খাতুন। কেন নাইমার জন্য এখনও পর্যন্ত রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী চাকরির ঘোষণা করা হয়নি সেই প্রশ্ন তুলেছেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা। দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে বুধবার তিনি মালদায় (Malda) এসেছিলেন।
দলীয় কর্মসূচির মাঝে জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বর সঙ্গে তিনি নাইমার গ্রামের বাড়ি মানিকচকের কালিন্দ্রীতে যান। সেখানে তিনি স্বর্ণপদকজয়ীকে সম্মান জানান। পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার নাইমাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে দলের পক্ষ থেকে সম্মান জানান তিনি।
২৩তম এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্সে ২৩টি দেশের মধ্যে জ্যাভলিন থ্রো-এ প্রথম স্থান অধিকার করে দেশের জন্য সোনা জেতেন নাইমা। তিনি বর্তমানে মানিকচক থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত। সোনা জেতার পর থেকেই গ্রামবাসী ও তাঁর পরিবারবর্গ নাইমার জন্য সরকারের কাছে স্থায়ী চাকরির দাবি জানিয়েছিলেন। একাধিক রাজনৈতিক দল তাঁকে এর মধ্যে সংবর্ধনা জানিয়েছে। কিন্তু চাকরির বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি।
শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নয়, শাসকদলের নেতারাও নাইমার জন্য সরকারের কাছে স্থায়ী চাকরির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু স্বর্ণপদক প্রাপ্তির পর বেশকিছু দিন কেটে গেলেও স্থায়ী চাকরির বিষয়ে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তাই নাইমার পরিবার সহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ জমা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এদিন নাইমার বাড়িতে এসে তাঁর স্থায়ী চাকরির দাবিতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে নাইমার জন্য যোগ্য সম্মানের দাবি জানান তিনি।
এদিন ধ্রুবজ্যোতি বলেন, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চোখে ছানি পড়েছে। স্বর্ণপদকজয়ী নাইমাকে তাঁর যোগ্য সম্মান ও চাকরি থেকে বঞ্চিত করছে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। নাইমার পরিবারের সদস্যরা ছাগল বিক্রি করে সংসার চালান। এরকম এক পরিবারের মেয়ে দেশের ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছে। নাইমার কৃতিত্ব কেন তাদের চোখে পড়ছে না এই প্রশ্ন তুলেছেন ধ্রুবজ্যোতি।
