হরষিত সিংহ, মালদা: গ্রামের পাশ ঘেঁষে ভাগীরথী বয়ে গিয়ে বাংলাদেশে পড়েছে। নদীর উপরে বিএসএফ টহলদারির ব্রিজ। ঠিক তার নীচে জঙ্গল ঘেরা শ্মশান। সেই শ্মশান সংলগ্ন কালী মন্দির। বেদি বাঁধা মন্দিরে নেই ছাউনি। পুজো উপলক্ষ্যে পলিথিন টাঙানো হয়েছে। পুজোর দিন দুপুরেও নিঝুম মন্দির চত্বর। সদর গেটে টিমটিম করে জ্বলছে ছোট্ট একটা বালব। চারদিকে ঘুরছে একদল শিয়াল। কখনও বট গাছের নীচে আবার কখনও মন্দিরের পেছন থেকে উঁকি দিচ্ছে শিয়াল। যখন অন্যান্য মন্দিরে জমজমাট পুজোর প্রস্তুতি, তখন ইংরেজবাজারের মহদিপুর গড়মাহালি গ্রামের পাশে মহদিপুর শ্মশানকালী মন্দির চত্বর নিঝুম।
মালদার (Malda) ইংরেজবাজার (English Bazar) ব্লকের মহদিপুর শ্মশান সীমান্তের কাঁটাতার ঘেরার ওপারে পড়ে যায়। কয়েক বছর সেখানেই পুজো হয়েছে প্রথম দিকে। পুজোর শুরু থেকেই বাংলাদেশের অনেকেই এই পুজোয় শামিল হতেন। কাঁটাতার ঘেরার পর এই পুজো মিলনমেলায় পরিণত হত। কারণ এই একটা দিন দুই দেশের নাগরিকেরা একে অপরের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তার জন্য শ্মশান কাঁটাতার ঘেরার ভেতরে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে যেখানে মন্দির ও শ্মশান রয়েছে। একেবারেই কাঁটাতার ঘেরার পাশে নদীর তীরে রয়েছে মন্দির ও শ্মশান। এখানে পুজো শুরু হলে বাংলাদেশের নাগরিকেরা কাঁটাতার ঘেরার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এপারের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতেন। বর্তমানে সেই নিয়ম বন্ধ করা হয়েছে দুই দেশের নিরাপত্তার জন্য। আপাতত পুজো হচ্ছে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে। স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম শেখ বলেন, ‘আগে মিলনমেলা হত। হিন্দু, মুসলিম সকলেই অংশগ্রহণ করতেন। সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য এখন সব বন্ধ। এখন শুধু পুজো হয়।’
এই পুজোর সূচনা করেছিলেন স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা ভিকু হালদার। তারপর থেকেই পুজো হয়ে আসছে। এখন এই পুজো করছেন তাঁর ছেলে সুফল হালদার ও নাতি আনন্দ হালদার। একেবারেই সীমান্তে পুজো তাই আমাবস্যার রাতে নয় পরের দিন এই পুজো চালু করা হয়। আমাবস্যা তিথি পরের দিন পর্যন্ত থাকে। তাই এই নিয়ম। দিনে পুজো হলে সকলেই অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সেবায়েত আনন্দ হালদার বলেন, ‘সকলেই যেন এই পুজোয় অংশগ্রহণ করতে পারেন তাই দিনে পুজো চালু করেছিলেন আমার ঠাকুরদা। সেই সময় বাংলাদেশ থেকেও অনেকে আসতেন। এখন নিরাপত্তার জন্য ওপারের কেউ আসতে পারেন না। কিন্তু এখনও পুজো অমাবস্যার রাতে নয় দিনে পুজো হয়।’
গড়মহলি গ্রামে হিন্দু, মুসলিম সকলেরই বসবাস। কালীপুজোতেও সকলে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এখানে প্রতিমা তৈরি করা হয় না। বেদিতেই পুজো হয়। প্রতিবছর পুজো উপলক্ষ্যে কয়েক ঘণ্টা মেলা বসে শ্মশান চত্বরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমজমাট থাকে সেই মেলা। মহদিপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ভক্ত এখানে আসেন। পুজো উপলক্ষ্যে বলিপ্রথা চালু রয়েছে। বর্তমানে এই পুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্য মিলনমেলা বা উৎসব বন্ধ হয়ে পড়ায় হতাশ স্থানীয়রা।
