অরিন্দম বাগ, মালদা: আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মালদার (Malda) মিলকি ফাঁড়ির অধীনে থাকা গ্রামগুলির বাসিন্দাদের। কখনও দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করছে দুষ্কৃতীরা। আবার কখনও বাড়ির উদ্দেশ্যে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। তবে ওই ৪টি ঘটনার পর কোনও মহিলার ওপর হামলার অভিযোগ অবশ্য ওঠেনি। কোনও জখম হওয়া বা প্রাণহানির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাগাতার টহল দিচ্ছে বলে দাবি করেছে।
ওই গ্রামগুলিতে গত সপ্তাহতিনেক ধরে পরপর ৪ জন মহিলার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে সবক্ষেত্রেই। ৪ জনের মধ্যে ৩ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন একজন। কিন্তু এখন এলাকাবাসী বলছেন, ‘স্টোনম্যানের’ আতঙ্কের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় দুষ্কৃতীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রবিবার রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর একাধিক বাড়িতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পুরো এলাকায় টহল দিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। সোমবার সকালে বাসুদেবপুর গ্রামে ঢুকতেই কয়েকজন তরুণ সামনে এগিয়ে এলেন। নাম-পরিচয় না জানা পর্যন্ত বাইরের যে কোনও লোককেই সন্দেহের নজরে দেখছেন ওই এলাকার মানুষজন। তাঁরাই বললেন, বাসুদেবপুরের একাধিক বাড়িতে রাতবিরেতে দুষ্কৃতীরা ঢোকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, আনন্দমোহনপুর এলাকায় আবার একাধিক বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাসুদেবপুরের বাসিন্দা অচিন্ত্য মণ্ডলের কথায়, ‘রবিবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত ১১টা নাগাদ আমাদের বাড়ির দরজায় শব্দ শুনতে পাই। দেখি বাইরে থেকে কেউ টর্চ মেরে ঘরের ভেতরে দেখার চেষ্টা করছে। চিৎকার করতেই ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়।’ অচিন্ত্যর বাড়ির আগে আরও দুটি বাড়িতেও ঢোকার চেষ্টা করা হয়েছে। রাতেই তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এলে তাঁরাও পুলিশের সঙ্গে গোটা এলাকায় টহল দিয়েছেন। তবে ততক্ষণে ওই ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
আনন্দমোহনপুরের বাসিন্দা রাজু কর্মকার বলছিলেন, ‘রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমার বাড়ির ছাদে দু-তিনটে ঢিল ছোড়া হয়। আমি কয়েকজন প্রতিবেশীকে নিয়ে রাস্তায় এদিক-ওদিক ঘুরে দেখেছি। কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি।’
স্থানীয়রা আতঙ্ক কাটাতে কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। শ্যামলী মণ্ডল নামে এক মহিলা বললেন, ‘এই পরিস্থিতির মধ্যে বাড়ির সামনে বড় বাতি লাগিয়েছি। পুরুষ মানুষ না থাকলে বাড়িতে একা থাকতে ভয় হচ্ছে। তাই আমরা স্থানীয় মহিলারা একসঙ্গে বসে থাকছি। রাতে আমাদের পাশের বাড়িতে কেউ বা কারা ঢিল ছুড়েছে।’ তাঁর সন্দেহ, বাড়িতে কেউ আছে কি না, কিংবা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে কি না তা জানতেই হয়তো ঢিল ছোড়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে গ্রামবাসী বেশ আতঙ্কে রয়েছেন।
