কল্লোল মজুমদার, মালদা : রামকৃষ্ণ মিশন ঘাট (Ramakrishna Mission Ghat) এবং সদর ঘাট, মালদা শহরের এই দুটি ঘাটে মূলত প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। মিশন ঘাটে সেই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মালদায় (MALDA) প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ হয়েছে। পুরকর্মীরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নদী সাফাইয়ে নেমেছেন। নদী পাড়ের এক প্রান্তে ডাঁই করে রাখা বাঁশ, কাঠের তৈরি কাঠামো। রবিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, সেই কাঠামো সংগ্রহে ব্যস্ত কয়েকজন মৃৎশিল্পী। সামান্য দামে কাঠামোগুলো কিনে নিয়ে তাঁরা চলে যাচ্ছেন নিজেদের কারখানায়। জিজ্ঞাসা করায় জানালেন, সামনেই কালীপুজো। কম দামে দুর্গার কাঠামো কিনে তাতেই তাঁরা কালী প্রতিমা তৈরি করবেন। এ যেন মাছের তেলে মাছ ভাজা!
মৃৎশিল্পী বিবেক দাসের দাবি, ছোট ছোট শিল্পীদের কিছু করার থাকে না। কারণ বাঁশ-কাঠের দাম আকাশছোঁয়া। অথচ প্রতিমার দাম বাড়ছে না। আমরা এই কাঠামো কিনি না ঠিকই, কিন্তু বাধ্য হয়ে ছোট শিল্পীদের তা কিনতে হয়। ইংরেজবাজার পুরসভার একটি সূত্র জানাচ্ছে, রামকৃষ্ণ মিশন ঘাটে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০টির বেশি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। অন্যদিকে, সদর ঘাটে সেই সংখ্যাটা ৩০। সদর ঘাটে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুরকর্মী জানালেন, ‘এমনিতেই কাঠামোগুলি আমরা গাড়িতে তুলে ভাগাড়ে ফেলে আসতাম। কিন্তু কিছু মৃৎশিল্পী এই কাঠামো সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।’ যদিও তিনি বিক্রি করার কথা স্বীকার করেননি। মৃৎশিল্পী রঞ্জিত পাল অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘৫০, ১০০ টাকা দিয়ে সাইজ অনুযায়ী এই কাঠামোগুলো কিনতে হচ্ছে। এই কাঠামোর উপর কালী প্রতিমা তৈরি করব। তাতে আমাদের কিছু সাশ্রয় হয়।’
তবে প্রতি বছর দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের পর মহানন্দায় দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। কিন্তু, এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। নদীর একটা বড় অংশজুড়ে বাঁশের ব্যারিকেড করে দিয়েছে পুরসভা। যাতে কাঠামোগুলি ভেসে গিয়ে দূষণ না ছড়ায়। প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে থার্মোকলের তৈরি সামগ্রীগুলো তুলে ফেলা হচ্ছে। আর কাঠামোগুলো জড়ো করা হচ্ছে নদীর ধারে। পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। পুরসভার এই উদ্যোগে খুশি পরিবেশপ্রেমীরা।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশপ্রেমী রূপক দেবশর্মা বলেন, ‘এবার যেভাবে নদী দূষণ রুখতে পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে তাতে আমরা খুশি। আমরা আশা করব নদীর দূষণ রুখতে সারাটা বছর এভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
যদিও, পুরসভার এই পদক্ষেপে মন খারাপ এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। বিগত বছরগুলিতে এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই ওই কাঠামো নদী থেকে তুলে বিক্রি করত। যেটুকু টাকা সংগ্রহ হত, তা দিয়ে পছন্দমতো জিনিস কিনত। রবিবার হাতেগোনা কয়েকটি ক্লাবের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। এই সময় ঘাটপাড়ে দাঁড়িয়েছিল এলাকার কয়েকজন খুদে। জিজ্ঞাসা করতেই তপন হালদার নামের এক খুদের উত্তর, ‘দ্যাখো না কাকু আমাদের জলে নামতে দিচ্ছে না…।’
