কল্লোল মজুমদার, মালদা: যুদ্ধ যখন সামনে এল সম্প্রীতির রেওয়াজ কি উধাও হয়ে যায়? বিধানসভা ভোটের আগে মালদায় (Malda) রং খেলার ছবি সেই প্রশ্নটাই তুলে দিয়ে গেল। অন্যবারের তুলনায় অন্যরকম বসন্ত উৎসব দেখল মালদা। উৎসবে গা ভাসালেন সকলেই। তবে এতদিন মালদা দেখে এসেছে ডিএসএ ময়দানে দোল খেলায় সবুজ, লাল, গেরুয়ার রংমিলান্তি। এবার সেসব যে কোন কুলুঙ্গিতে চাপা পড়ে গেল কে জানে! তৃণমূলের আব্দুর রহিম বক্সী, বিজেপির অজয় গঙ্গোপাধ্যায়, কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নুর কিংবা সিপিএমের কৌশিক মিশ্র। সবাই নিজেদের মতো করে উৎসব পালন করলেন। শুধু নিজেদের মতো করে।
আর পাঁচটা দিনের চাইতে বুধবার একটু আগে ঘুম ভেঙেছে মৌসমের। এদিন তাঁর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। একটাই ‘কর্মসূচি’ ছেলে আর মেয়ের সঙ্গে রং খেলা। সকাল ১১টার মধ্যে রং খেলে স্নানও করে নেন। সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন। মৌসমের কথায়, ‘আমার ছেলে মির্জা আইমান নুর বেগ ও মেয়ে আমাইরা নুর বেগের সঙ্গে সকাল সকাল রং খেলেছি। রমজান মাস চলছে। আবার অনেকেই এই সময়টা রং খেলেন। তাই কোনও কর্মসূচি রাখিনি।’ এদিকে, আইসিসি’র ডাকে মঙ্গলবার রাতেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। তিনি প্রতিবছর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবং কর্মীদের সঙ্গে এই দিনটি পালন করেন। এবছর তার অন্যথা হয়েছে।
বুধবার একটু সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তৃণমূলের (TMC) জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী। তিনি সোজা চলে যান মালতীপুরের দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। কেউ কপালে, কেউ পায়ে আবির দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় লাড্ডু। বিতরণ করা হয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। রহিম বলেন, ‘এখান থেকে চলে যাব রতুয়া কার্যালয়। আর বিকালে মালদা পার্টি অফিসে। সেখানেও রং খেলা হবে।’ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর কোনও দলীয় কর্মসূচি ছিল না। নিজের ক্লাব কালীতলায় এলাকার মানুষের সঙ্গে রং খেলেছেন। আর রাজ্যের মন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক তজমুল হোসেনের মন্তব্য, ‘এদিন বাড়ি থেকে বের হইনি।’
ভোটের আগে এবারের রংয়ের উৎসব বিজেপির নেতাদের কাছে ছিল একটু অন্যরকম। ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে মালদা শহরের বৃন্দাবনী ময়দানে হাজির হয়েছিলেন দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বড়দের পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম করে তিলক কাটেন। সেখান থেকে সোজা চলে যান গৌড় রোডে। তারপর পোস্ট অফিস মোড়ে। ছুটির দিন, তাই জমে ওঠে চায়ের আসর। অজয় বললেন, ‘এদিন কোনও রাজনৈতিক কথাবার্তা নয়, শুধু একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা জানিয়ে রংয়ের উৎসব পালন করেছি। বিকেলে দলীয় কার্যালয় শ্যামাপ্রসাদ ভবনে সকলে আসবেন। সেখানেও একপ্রস্থ আবির খেলা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ব ভোট ময়দানে।’ দাঁতের ইনফেকশন এখনও শুকায়নি খগেন মুর্মুর। তাই চিকিৎসকের নিষেধে এবার রং খেলা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। দিন কেটেছে ঘরে বসেই। তবে ‘সবাইকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছি’, বলেছেন সাংসদ।
