হরষিত সিংহ, মালদা: মুখে বলতে পারে না। তবে ইশারায় সমস্ত কিছু বোঝাতে পারে ১৫ বছরের রাফিয়া খাতুন। মা জামিলা বিবি মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছেন। আর পাঁচটা সাধারণ পড়ুয়ার সঙ্গে একই ক্লাসরুমে বসে পড়াশোনা করছে রাফিয়া। সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। জামিলা চাইছেন মেয়ে পড়াশোনা শিখুক। তবে আর্থিক অনটন থাকায় বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ের বিশেষ পড়াশোনার সামগ্রী কিনতে পারেননি। মালদার (Malda) ইংরেজবাজার ব্লকের জহুরাতলা এলাকায় বাড়ি রাফিয়ার।
সাতটারি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্র ইত্তেফার মমিন। কথা বলতে গিয়ে আটকে যায়, হাতে তেমন বল পায় না। কিন্তু সে পড়াশোনা করতে চায়। সাতটারি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সে। চিকিৎসার জন্য প্রচুর খরচ বহন করতে হচ্ছে পরিবারকে। ইচ্ছে থাকলেও ছেলেকে পড়াশোনার বিশেষ সামগ্রী কিনে দিতে পারছেন না বাবা জাহেরুল মমিন। এমন আরও অনেক বিশেষভাবে সক্ষম শিশু রয়েছে। যাদের পড়াশোনায় বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এই সমস্ত বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের প্রয়োজনীয় পড়াশোনার বিশেষ সামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি শিবিরের মাধ্যমে মঙ্গলবার মালদা সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফ থেকে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের পড়াশোনার বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এদিন কিটব্যাক হাতে পেয়ে বেজায় খুশি ইত্তেফার। নিজের হাতে ব্যাগ খুলে দেখতে থাকে কী রয়েছে তার মধ্যে। খেলার ছলে পড়ার বিভিন্ন সামগ্রী, আধুনিক যন্ত্রের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী দেখে হেসে ওঠে। সমস্ত কিছু দেখে, ব্যাগ বন্দি করে বাবার হাতে বিশাল ব্যাগটি তুলে দেয়। জাহিরুল বলেন, ‘এই পড়াশোনার সামগ্রী পেয়ে ছেলের স্মৃতিশক্তি বাড়বে। আশা করছি পড়াশোনায় ভালো হবে।’
বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ার পরও পড়াশোনা করছে এমন ইংরেজবাজার ব্লকের ৬৫ জন শিশুকে বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক পড়াশোনার কিট, হেয়ার মেশিন, ট্রাইসাইকেল, হুইলচেয়ার সহ বিভিন্ন জিনিস দেওয়া হয়। মেয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন জামিলা। স্বামী রফিক শেখ টোটোচালক। এদিন সরকারি উদ্যোগে মেয়ের পড়াশোনার জন্য নানান সামগ্রী পেয়ে তিনি খুশি। এই সমস্ত পড়াশোনার সামগ্রী পেয়ে মেয়ের অনেক সুবিধা হবে বলে জানালেন তিনি।
এবিষয়ে সমগ্র শিক্ষা মিশনের মালদা প্রোজেক্ট অফিসার অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্য সরকারের নির্দেশেই কাজটি হচ্ছে। জেলায় আগামী ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত এই শিবির চলবে।’ সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে পড়াশোনার সামগ্রী বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। মালদা জেলায় প্রথম দেওয়া হল বলে জানা গিয়েছে। এই বছর মালদা জেলায় মোট ৬৬৪ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রত্যেকেই প্রি নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করছে। এই প্রথম সরকারিভাবে পড়াশোনার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।
The put up Malda | কিটব্যাগ পেয়ে খুশি রাফিয়া, ইত্তেফাররা appeared first on Uttarbanga Sambad.
