বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: রাজ্যজুড়ে পুজোর মরশুম একেবারে দোরগোড়ায়। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার বিশ্বকর্মাপুজো। তারপরই বাঙালি মেতে উঠবে শারদোৎসবে। তারপর লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো থেকে জগদ্ধাত্রীপুজো সবই রয়েছে পরপর। ফলে এসময় থেকেই বাজারে ফুলের চাহিদা একেবারে তুঙ্গে। ময়নাগুড়ি শহরে (Mainaguri) ফুলের পাইকারি বাজার আগাগোড়াই নেই। শিলিগুড়ি শহর থেকে চাহিদা অনুযায়ী ফুল আনা হয়। কেউ কেউ আবার সরাসরি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা এমনকি বেঙ্গালুরু থেকেও সরাসরি ময়নাগুড়িতে ফুল আমদানি করেন। এই সময় চাহিদা বেশি, তাই সারাবছরের তুলনায় পুজোর মরশুমে ফুলের দামও বেশ চড়া। অবশ্য সবচেয়ে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে পদ্ম। তাই পুজো উদ্যোক্তা হোক কিংবা পুরোহিতরা অনেকেই ১০৮টি পদ্ম ফুলের জন্য অগ্রিম বুকিং সেরে ফেলেছেন।
অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে আয়োজিত সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্ম বিশেষ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে অগ্রিম বুকিং না করলে ফুল পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠবে এমনই আশঙ্কা রয়েছে শহরবাসীর। এদিকে, চাহিদা অনুযায়ী দামের ফারাকও স্পষ্ট। গত বছর শহরে ১০৮টি পদ্মের জন্য প্রায় ১৮০০ টাকা অবধি দর উঠেছিল। চলতি বছরে সেই দাম আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।
ময়নাগুড়ি শহরে হাতেগোনা কয়েকজন ফুল ব্যবসায়ী রয়েছেন। তবে নদিয়া জেলার বেথুয়াডহরি থেকে গাঁদা, রানাঘাটের গোলাপ, বোলপুর থেকে পদ্ম, বেঙ্গালুরু থেকে ডাচ গোলাপ শহরে সরাসরি আমদানি হয়। পুরোনো এক ফুল ব্যবসায়ী দোলন মণ্ডল বলেন, ‘আমরা ৯৫ শতাংশ ফুল সরাসরি বাইরে থেকে নিয়ে আসি। এবার এখনও পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার পদ্মের বায়না হয়েছে। তবে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই মনে করছি। আগামী দশ-এগারো দিনের মধ্যেই পদ্ম ফুল চলে আসবে।’ অন্যদিকে, রানাঘাট এবং শিলিগুড়ি থেকেই ফুল আনেন আরেক ব্যবসায়ী গৌতম ভৌমিক। তিনি জানালেন, বিশ্বকর্মাপুজো থেকেই ফুলের চাহিদা বাড়তে থাকে। গাঁদা ফুল প্রচুর লাগে। বর্ষার মরশুমে এখনও আমদানি কিছুটা কম।
তবে পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অপূর্ব রায়ের কথায়, ‘শহরে পাইকারি বাজার না থাকলেও সারাবছর রকমারি ফুল মেলে।’ এদিকে, পুজোর সময় গাঁদা সহ অন্যান্য ফুল পাওয়া গেলেও বড় সমস্যা হয় পদ্ম ফুলের জোগাড় নিয়ে। সেক্ষেত্রে অগ্রিম বুকিং ছাড়া বিকল্প কোনও পথ নেই। পদ্মের জন্য ময়নাগুড়ির একমাত্র ভরসা বোলপুর। স্থানীয় এলাকা থেকে পাওয়া পদ্ম কিংবা শিলিগুড়ি বাজার বিপুল পদ্মের চাহিদা মেটাতে পারে না। দেবীনগর সানরাইজ ক্লাব পুজো কমিটির সম্পাদক ঝুলন সান্যাল বলেন, ‘সন্ধিপুজোর জন্য অগ্রিম ১০৮টি পদ্ম ফুল আগেই বুকিং করে নিয়েছি। প্রতি বছরই আমরা তাই করি।’ পাশাপাশি ময়নাগুড়ি ব্লক পুরোহিত কল্যাণ সমিতির সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, সন্ধিক্ষণে ১০৮টি পদ্ম ফুল তো লাগবেই। তাই অগ্রিম বুকিং ছাড়া পথ নেই।
