অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ছটপুজো উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ভোরে জরদা নদীর ঘাটে পুণ্যার্থীদের ব্যাপক সমাগম হয়। মাঝরাত থেকে পুণ্যার্থীরা শোভাযাত্রা করে জরদা ঘাটে পৌঁছান। সেখানে পোড়ানো হয় আতশবাজি। সূর্য ওঠার সময় জরদা নদীতে নেমে অর্ঘ্য নিবেদন করেন কয়েক হাজার মানুষ।
ময়নাগুড়িতে এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পুজোয় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল নজরকাড়া। নদীর চারপাশে আলপনা, প্রদীপ এবং ভক্তদের গলায় ছটের সুর মিলিয়ে তৈরি হয় অনন্য উৎসবের আবহ। ধর্মবর্ণভাষা নির্বিশেষে মানুষের মিলন এবং একাত্মতার নিদর্শন হয়ে ওঠে এই উৎসব।
এদিন ভোর থেকে ময়নাগুড়ি ক্লাসিক ফাইভ স্টার, ময়নাগুড়ি বিহারি জনকল্যাণ মঞ্চ, লালবাবা ছটঘাট, দুর্গাবাড়ি ছটঘাট ও পেটকাটি ছটঘাটে উপচে পড়ে ভিড়। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি রামমোহন রায় ছটব্রতীদের শাড়ি উপহার দেন। বিহারি জনকল্যাণ মঞ্চের তরফে ওমপ্রকাশ শা’র কথায়, ‘অন্যবারের তুলনায় এবছর ভিড় বেশি হয়েছে। আমাদের আয়োজন সকলের ভালো লেগেছে।’
এদিন ভোর থেকে ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। ছটপুজো উপলক্ষ্যে জরদা নদীর ঘাটে যাতে পুণ্যার্থীদের হুড়োহুড়ি না পড়ে সেদিকে সতর্ক ছিল পুলিশ। দুর্ঘটনা রুখতে মোতায়েন করা হয় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের। বেলার দিকে শোভাযাত্রা করে একে একে বাড়ি ফেরেন পুণ্যার্থীরা। দিনভর চলে শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রসাদ বিতরণ। বুধবার বিচিত্রা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে পেটকাটি ছটঘাট কমিটির তরফে লালু রাউত জানিয়েছেন।
