বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রধান বাণিজ্যিক ও চিকিৎসাকেন্দ্র। অথচ সেই শিলিগুড়িতে যাওয়ার জন্য ময়নাগুড়ির (Mainaguri) বাসিন্দাদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কারণ, ময়নাগুড়ি-শিলিগুড়ি রুটে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)-এর কোনও বাস নেই (NBSTC)। নিত্যদিন হাজার হাজার মানুষ কাজের তাগিদে শিলিগুড়ি যাতায়াত করলেও তাঁদের একমাত্র ভরসা বেসরকারি বাস। এমনকি দূরপাল্লার সরকারি বাসগুলিও ময়নাগুড়ি শহরের ভেতরে না ঢুকে বাইপাস হয়ে চলে যায়। ফলে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের।
আগে রামশাই থেকে ময়নাগুড়ি শহর হয়ে শিলিগুড়ির বাস চলত। তবে তা বহু বছর ধরে বন্ধ। ময়নাগুড়ি ডিপো থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় রায়গঞ্জ এবং সকাল ৮টার মধ্যে পরপর ৪টি বাস ফরাক্কার উদ্দেশে রওনা দেয়। তারপর সারাদিন ডিপো কার্যত খাঁখাঁ করে। অথচ ডিপোতে ১৯ জন চালক এবং ২১ জন কনডাক্টর রয়েছেন।
অফিসের কাজে শিলিগুড়ি যাতায়াত করেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভোলানাথ সরকার। তিনি বলেন, ‘অফিসের কাজে শিলিগুড়ি যেতে একমাত্র ভরসা বেসরকারি বাস। সেটারও নির্দিষ্ট সময় আছে। অপেক্ষা করতে হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।’ ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মৃণাল সরকারের বক্তব্য, ‘ব্যবসার জন্য প্রায়দিনই শিলিগুড়ি যেতে হয়। শিলিগুড়ি যাওয়া মানেই ভোগান্তি। বেশ কয়েক বছর আগে ময়নাগুড়ি ডিপো থেকে ময়নাগুড়ি-শিলিগুড়ি রুটে নিগমের একাধিক বাস যাতায়াত করত। সেইসব বাস বহুদিন ধরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’
ভোগান্তির ছবিটা স্পষ্ট হয় স্ট্যান্ডে এলে। বার্নিশ এলাকার বাসিন্দা সাধন মণ্ডল শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য সকাল ১১টা থেকে টানা ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেও কোনও বাস পাননি। অগত্যা টোটো ভাড়া করে ইন্দিরা মোড়ের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখান থেকেই কোনও বাসে চাপবেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নমিতা চক্রবর্তী তাঁর ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে শিলিগুড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। সরাসরি বাস না পেয়ে জলপাইগুড়ির বাসে চেপে বসেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘এভাবে গেলে অনেকটা সময় লেগে যায়। কিন্তু কী আর করব?’
এই চরম অব্যবস্থা প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

