উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না— এই প্রচলিত প্রবাদটিই যেন আরও একবার প্রমাণিত হল রবিবার রাতে। দীর্ঘদিনের সংঘাত আর বাগযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট সাংসদ (TMC MP) মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mahua Moitra-Kalyan Banerjee)। সৌজন্যে, তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের কন্যার বিবাহ অনুষ্ঠান (Wedding ceremony ceremony)।
বিগত কয়েক বছরে কল্যাণ-মহুয়া দ্বন্দ্ব বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় ছিল। সংসদীয় কমিটির বৈঠক থেকে শুরু করে প্রকাশ্য জনসভা— একে অপরের প্রতি তোপ দাগতে ছাড়েননি কেউই। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছিল যে, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়ার সঙ্গে বাদানুবাদের জেরে এক সময় সংসদীয় দলের চিফ হুইপের পদও ছেড়ে দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মহুয়া মৈত্রও পালটা ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদকে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল এই বিবাদ মেটাতে।
তবে রবিবারের ছবি বলছে অন্য কথা। সমস্ত তিক্ততা ঝেড়ে ফেলে এদিন খোশমেজাজে একে অপরের সঙ্গে গল্পে মাতলেন দুই সাংসদ। নীল শাড়ি আর মানানসই শালের আভিজাত্যে মহুয়া ছিলেন উজ্জ্বল, অন্যদিকে প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা গেল অত্যন্ত হাসিখুশি। শুধু কুশল বিনিময়ই নয়, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবিও তুললেন তাঁরা। পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
তৃণমূলের অন্দরে এই ‘পুনর্মিলন’ নিয়ে খুশির হাওয়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের দুই প্রভাবশালী নেতার এই সৌজন্য বিনিময় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংহতিকেই মজবুত করবে। আদতে সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়ে এক ছাদের তলায় এনে দিল বিবাদমান দুই সহকর্মীকে, যা বুঝিয়ে দিল— সৌজন্যের রাজনীতি এখনও অমলিন।
