উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ জাতিধর্মের উর্ধে উঠে প্রাধান্য পেল মনুষত্ব। ২৯ জানুয়ারি মহাকুম্ভে(Maha Kumbh) পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পরেই উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মসজিদ, মাদ্রাসা,ইমামবাড়া এমনকি নিজেদের ঘরের দরজাও উন্নুক্ত করে দিলেন পুণ্যার্থীদের জন্য। স্বেচ্ছাসেবীরা তৈরি করলেন রিলিফ ক্যাম্প। পুন্যার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করা হল খাবার, পানীয় জল এবং কম্বলের।
প্রসঙ্গত, মৌনী অমাবস্যার দিন কুম্ভে অমৃতস্নানের সময় হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বেশ কিছু মানুষের আহতও হন বহু মানুষ। ঘটনাটির পর থেকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যাও। আর এই ঘটনার ঠিক পরেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পুন্যার্থীদের। হাইওয়েতে আটকে পড়ে একের পর এক বাস এবং প্রাইভেট গাড়ি। আটকে পড়েন লাখ লাখ মানুষ।ফলে নির্দিষ্ট গাড়ি ধরতেও ব্যর্থ হন অনেকে, অসহায় বোধ করতে থাকেন বহু পুন্যার্থী। এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত বছর ৬৮-র রামনাথ তিওয়ারি(Ramnath Tiwari) বলেন, “আমরা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অসহায় লাগছে।”
আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নেমে পড়েন আশেপাশের নাখাস খোনা, রোশন বাগ, হিম্মতগঞ্জ, খুলদাবাদ, রানি মান্ডি এবং শাহগঞ্জ এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। মুহূর্তের মধ্যে খুলদাবাদ সব্জি মন্ডি মসজিদ(Khuldabad Sabzi Mandi Masjid), বাড়া তাজিয়া ইমামবাড়া এবং চৌক মসজিদ পরিণত হয় পুন্যার্থীদের রাতের আশ্রয়স্থলে। দ্রুত গড়ে তোলা হয় কমিউনিটি কিচেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে ক্ষুধার্ত এবং বিধ্বস্ত পুন্যার্থীদের মুখে তুলে দেওয়া হয় গরম খাবার, চা।
বাহাদুরগঞ্জের বাসিন্দা মহম্মদ ইরসাদের কথায়, ‘এমন সময়, কেউ আর হিন্দু বা মুসলিম নয়, সবাই মানুষ।” তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন রাতে আমরা মানুষকে নিদারুন কষ্ট পেতে দেখেছি। আমরা তাই করেছি যা আমাদের উচিত বলে মনে হয়েছে।’ নাখাস খোনার বাসিন্দা রাজা আব্বাস জাইদি নামের এক প্রাইমারি স্কুল টিচার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেদিন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ির মহিলারা পুন্যার্থীদের জন্য রান্না করা শুরু করে দেয়। পুরুষেরা সেই খাবার বিতরনের ব্যাবস্থা শুরু করেন। শিশুরা পুন্যার্থীদের পথ দেখিয়ে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থলের দিকে নিয়ে আসে। সেদিন আমাদের সহনাগরিকদের সাহায্যের তাগিদে এক অব্যক্ত সংযোগ স্থাপন হয়ে গিয়েছিল সবার মধ্যে।’
