উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে উদ্বেগের কালো মেঘ এবার কেড়ে নিল একটি প্রাণ! দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট (Magrahat Voter Checklist Panic) পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ঘোলা নয়াপাড়ার বাসিন্দা রফিক আলি গাজি (৪৪)-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিবারের দাবি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ (Underneath Adjudication) দেখে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রফিক, আর সেই আতঙ্ক থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রফিক আলি গাজির নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা ছিল। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় তাঁর নাম স্থায়ীভাবে থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে। রফিকের পরিবারের দাবি, তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে শুনানিতেও (Listening to) হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর নাম নিশ্চিত হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
মৃতের স্বজনদের মতে, গত শনিবার থেকেই রফিক চরম অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক কাজ করছিল। মঙ্গলবার রাতে সেই আশঙ্কাই মর্মান্তিক রূপ নেয়। খবর পেয়ে রাত ৮টা নাগাদ উস্তি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা।
এলাকায় ঘনীভূত উত্তেজনা
মগরাহাটের ১৪১ নম্বর বুথের বাসিন্দা রফিক একা নন; ওই এলাকায় তাঁর পরিবারের আরও ৫ জন এবং মোট ১১১ জন বাসিন্দার নাম এই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকায় নিশ্চিত না হওয়ায় এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা। উস্তি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন রফিকের স্ত্রী।
প্রশাসনের তরফে ভোটার তালিকায় এই বিভ্রাট বা বিচারাধীন অবস্থার কারণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা নির্বাচনের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন তুলে দিল।
