উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হোলির দুপুরে বিপত্তি মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। বুধবার ফ্লাইওভারের নীচে একটি মিষ্টির দোকান থেকে সূত্রপাত হওয়া ভয়াবহ আগুনে (Madhyamgram Fireplace) ভস্মীভূত হয়ে গেল সার সার দোকান। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২-৩ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। একের পর এক রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে (Cylinder Blast) আগুনের লেলিহান শিখা আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের ৫টি ইঞ্জিনকে দীর্ঘক্ষণ লড়াই করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে একটি মিষ্টির দোকানে আগুন লাগে, যার ঠিক পিছনেই ছিল একটি কাঠগোলা। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের সেলুন, ছোট মিষ্টির দোকান এবং রাস্তার ধারের বড় দুটি খাবারের দোকানে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে রাস্তার ধারের নারকেল গাছের সমান উঁচু শিখা দেখা যায়। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন স্টেশনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দমকল আসার আগেই পরপর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এলাকা কেঁপে ওঠে।
দমকলের বারাসত স্টেশন অফিসার শুভজিৎ লোধ জানিয়েছেন, মধ্যমগ্রাম, বারাসত ও বিরাটি থেকে মোট ৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের দগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, মৃত ব্যক্তি কোনো হোটেলের কর্মচারী। তবে তাঁর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য আর্থ মুভার আনা হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি আটকে আছেন কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও র্যাফ (RAF)।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সঠিক কারণ এখনই বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, পুরসভার ভূমিকা নিয়ে সরব হন স্থানীয় সিপিএম নেতা। তাঁর অভিযোগ, ফ্লাইওভারের নীচে বেআইনি বসতি ও দোকানের ভিড় নিয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে আজ এই বিপর্যয়। উৎসবের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় থমথমে হয়ে রয়েছে গোটা মধ্যমগ্রাম।
