উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ লরেন্স বিষ্ণোই এবং হাশিম বাবা গ্যাংয়ের হয়ে দিল্লির মাদক ও অস্ত্র সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী এক ‘লেডি ডন’-কে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ধৃত খুশনুমা আনসারি (Khusnuma Ansari) ওরফে নেহা অপরাধ জগতে ‘ম্যাডাম জেহের’ নামে পরিচিত। নেহার পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ববি কবুতরকে, যিনি ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা খুনের আগে রেইকি বা নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
পার্লারের আড়ালে ‘ম্যাডাম জেহের’
তদন্তকারীদের দাবি, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে একটি বিউটি পার্লার চালাতেন নেহা। কিন্তু আদতে সেটি ছিল বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মাদক ব্যবসার একটি ফ্রন্ট বা আড়াল। এই ব্যবসার মাধ্যমেই গ্যাংয়ের মাদক সরবরাহ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন তিনি। নেহা বিষ্ণোই সিন্ডিকেটের তৃতীয় ‘লেডি ডন’, যিনি সম্প্রতি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন (এর আগে দীপা ও জয়া খান গ্রেপ্তার হয়েছেন)।
মুসেওয়ালা খুনে ববি কবুতরের যোগ
ধৃত ববি কবুতর ওরফে মাহফুজ বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত শুটার ও অস্ত্র সরবরাহকারী। পুলিশের দাবি:
• মুসেওয়ালা মার্ডার: ২০২২ সালে সিধু মুসেওয়ালা খুনের আগে তাঁর গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন ববি। সেই তথ্য তিনি শুটারদের কাছে পৌঁছে দেন।
• অস্ত্র সরবরাহ: পাকিস্তানের আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ অস্ত্র কারবারি ‘সেলিম পিস্তল’-এর থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র আনিয়ে গ্যাংয়ের শুটারদের সরবরাহ করতেন তিনি।
• অন্যান্য অপরাধ: নাদির শাহ হত্যাকাণ্ড, অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়ির সামনে গুলিচালনা এবং সিলমপুর জোড়া খুনের ঘটনায় ববির সরাসরি যোগ রয়েছে।
মহিপালপুর ফ্লাইওভারের কাছে পাকড়াও
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মহিপালপুর ফ্লাইওভারের কাছে ওত পাতে স্পেশাল সেলের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স টিম। সেখান থেকেই নেহা ও ববি সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সাত বছর ধরে ববি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফেরার থাকলেও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধরা সম্ভব হয়েছে।
