সানি সরকার, শিলিগুড়ি: আবিরে রাঙার প্রস্তুতি সর্বত্র। একটু নিরিবিলিতে ছুটি কাটাতে ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে পর্যটকদের। এরই মধ্যে দোলপূর্ণিমার দিন চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। তাও আবার পূর্ণগ্রাস। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারের চন্দ্রগ্রহণ উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে সবচেয়ে ভালো পর্যবেক্ষণ করা যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দেশের যে জায়গাগুলি থেকে চন্দ্রগ্রহণ ভালো দেখা যাবে, সেই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার (Cooch Behar), দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) পাশাপাশি শিলিগুড়ির নাম। কিন্তু এই এলাকাগুলি থেকে কি গ্রহণের শুরু থেকে শেষ, দেখা যাবে? মহাকাশ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁরা কিন্তু কিছুটা হলেও সংশয়ে। যার মূলে রয়েছে এখানকার সূর্যাস্তের সময়।
কোচবিহারের রাজবাড়ির আকাশে চন্দ্রগ্রহণ কেমন লাগবে? এমন প্রশ্ন করলে একশো শতাংশ উত্তর হবে অপরূপ। দার্জিলিংয়ের ম্যাল থেকে গ্রহণের সাক্ষী থাকাটা জীবনের বড় প্রাপ্তি হতে পারে, এক্ষেত্রেও দ্বিমত তেমন না থাকার কথা। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, পশ্চিম ভারতের বাইরে দেশের সমস্ত জায়গা থেকে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি জায়গার সঙ্গে সবচেয়ে ভালো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে উত্তরবঙ্গের এই তিন এলাকা থেকে। ফলে দোল বা হোলিতে যাঁরা দার্জিলিং পাহাড়, কোচবিহারে বেড়াতে যাবেন বা ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নেবেন শিলিগুড়ি, তাঁরা আকাশে চোখ রেখে এক অপরূপ দৃশ্য দেখতে পাবেন বলে মনে করছেন আবহবিদরা। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে গ্রহণ শেষ হবে ৬টা ৪৮ মিনিটে। এর মধ্যে শিলিগুড়ি (Siliguri), দার্জিলিং ও কোচবিহারে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে।
এখানেই খটকা লাগছে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের। কেননা, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ঢাকা পড়া বা কালো হয়ে থাকার সময়সীমা ৪টা ৩৪ মিনিট থেকে ৫টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত। পূর্ণগ্রাসের পরেও কিছুক্ষণ চলবে গ্রহণ, ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। এদিকে, ওইদিন উত্তরবঙ্গে সূর্যাস্তের সময় ৬টা ৫ মিনিট। সূর্যাস্তের পরেও উত্তরের আকাশ ৩০-৪০ মিনিট রক্তিম থাকে। অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে অন্ধকারে ঢেকে যায় না উত্তরবঙ্গ। ফলে আলো যেখানে থাকবে, সেখানে চন্দ্রগ্রহণ কতটা দেখা যাবে, তা নিয়ে সংশয় দূর হয় না। এমনই কিছু যুক্তি খাড়া করে স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলছেন, ‘গ্রহণের একদম শেষ পর্বে কিছুটা দেখা গেলেও দেখা যেতে পারে। তবে নাগাল্যান্ড, অরুণাচলপ্রদেশের মতো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। এর মূলেই রয়েছে এখানকার সূর্যাস্তের সময়।’
গ্রহণের সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির প্রত্যক্ষ কী সম্পর্ক রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের দিন আকাশে কালো মেঘের জমাট বাঁধার উদাহরণ রয়েছে। যেমন গত বছর ৭-৮ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির জন্য অনেক জায়গাতেই পণ্ড হয়েছে চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী থাকা। শুক্রবার আকাশে মেঘ এবং কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ায়, দোলপূর্ণিমা এবং চন্দ্রগ্রহণ নিয়েও আশঙ্কার মেঘ গাঢ় হচ্ছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলছেন, ‘শনিবার কয়েকটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী পাঁচদিন তেমন সম্ভাবনা নেই।’ ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ না দেখা গেলে কিন্তু অপেক্ষায় থাকতে হবে ২০২৮-এর ৬ জুলাইয়ের জন্য। ওই সময়কালটাও ভরা বর্ষার।
