উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান ও পশ্চিমী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এবার ভারতের রান্নাঘরে। ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ করার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রান্নার গ্যাসের রিফিল নেওয়ার সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করল কেন্দ্র।
গ্যাস সিলিন্ডারে কেন এই কড়াকড়ি?
সরকারি সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যাহত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গার্হস্থ্য ব্যবহারের গ্যাসে যাতে টান না পড়ে, তাই সব রিফাইনারি বা শোধনাগারকে বাণিজ্যিক বা শিল্প ক্ষেত্রের চেয়ে রান্নার গ্যাস উৎপাদনে বেশি জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত মজুতদারি রুখতেই এক রিফিলের ২৫ দিন পর পরবর্তী বুকিংয়ের নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।
পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি বাড়বে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারতীয় গ্রাহকদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কর্মকর্তাদের মতে:
• দাম বৃদ্ধি: যতক্ষণ না অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকার আশা করা হচ্ছে।
• পর্যাপ্ত মজুত: দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর মজুত রয়েছে। দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্প সচল রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
ভারতের অবস্থান ও প্রতিবেশী দেশ
সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় ভারতের পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সংকটের দিকে তাকালেই বোঝা যায় ভারত কতটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।” ভারত বর্তমানে জ্বালানি তেলের উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উভয় ভূমিকাতেই থাকায় বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইউরোপের বন্ধু দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া বাকিদের জন্য এই পথ খোলা থাকতে পারে। তবে বাস্তবিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এখনও সময়ের অপেক্ষা। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি।
