বহরমপুর: প্রেমের পরিণতির কয়েক দিন কাটতে না কাটতেই ট্র্যাজেডি (Love Marriage Tragedy)। পরিবারের অমতে ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শাহনাজ খাতুন। কিন্তু সেই ভালোবাসাই যে কাল হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। পণের দাবিতে নববধূকে শ্বাসরোধ করে খুন করে দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর মহকুমার শুকরুলিয়া এলাকায় (Dowry Dying)। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত স্বামী মুক্তলেসুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকরুলিয়ার যুবক মুক্তলেসুর রহমানের সঙ্গে শাহনাজের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবার এই বিয়েতে সায় না দেওয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন তাঁরা। মেয়ের সুখের কথা ভেবে শেষমেশ শাহনাজের পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়। কিন্তু অভিযোগ, ঘর বাঁধার কয়েক দিন পর থেকেই মুক্তলেসুর ও তার পরিবার শাহনাজের ওপর পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে। বাপের বাড়ি থেকে মোটা টাকা নিয়ে আসার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলে দাবি পরিবারের।
বুধবার সকালে মুক্তলেসুরের বাড়ির পক্ষ থেকে শাহনাজের পরিবারকে জানানো হয় যে, সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু শাহনাজের পরিবারের দাবি, তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে দেহটি সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতার দাদা হাকমীর মল্লিক বলেন, “মুক্তলেসুরের স্বভাব ভালো ছিল না বলেই আমরা আগে বিয়েতে রাজি হইনি। শাহনাজের কথা ভেবে পরে সম্পর্কটা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু পণের টাকার লোভে ওরা আমার বোনকে মেরেই ফেলল। ও কোনোদিন আত্মহত্যা করতে পারে না।”
ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত মুক্তলেসুর রহমান ও তার পরিবারের সব সদস্য গ্রাম ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। বহরমপুর থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
