উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ ৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার লিপুলেখ পাস দিয়ে পুনরায় শুরু হতে চলেছে ভারত ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক সীমান্ত বাণিজ্য। আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর— এই চার মাসব্যাপী বাণিজ্য মরসুমকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে ‘অনাপত্তি পত্র’ (NOC) জারি করেছে।
লেনদেন হবে নিজস্ব মুদ্রায়
গত বছরের ১৮-১৯ আগস্ট চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)-র ভারত সফরের সময় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আগে এই বাণিজ্য ছিল ‘বার্টার’ বা পণ্য বিনিময় প্রথার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার থেকে ভারতীয় রুপি (INR) এবং চীনা ইউয়ান (Yuan)-এর মাধ্যমে সরাসরি লেনদেন হবে। এর জন্য সীমান্তে বিশেষ কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বা মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
তিন হিমালয় পাসে সড়কপথে বাণিজ্য
লিপুলেখ পাসের পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়েও বাণিজ্য শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটিই প্রথমবার হতে চলেছে যখন এই তিনটি হিমালয় পাস দিয়ে বাণিজ্য হবে সম্পূর্ণ সড়কপথ ভিত্তিক।
নেপালের আপত্তি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ভারত ও চীনের এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপে বাগড়া দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। কাঠমান্ডুর দাবি— লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তাই এই এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম না চালাতে দুই দেশকেই অনুরোধ করেছে নেপাল সরকার। তবে ভারত এই দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
বাণিজ্যের ইতিহাস ও গুরুত্ব
- ঐতিহাসিক যোগসূত্র: ব্রিটিশ আমল থেকেই লিপুলেখ ছিল বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার প্রধান পথ। ১৯৯২ সালে দীর্ঘ বিরতির পর এটি পুনরায় চালু হলেও ২০১৯ সালে করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
- আমদানি-রপ্তানি: তিব্বত থেকে সাধারণত লবণ, বোরাক্স, ভেষজ এবং পশুজাত পণ্য আসে। ভারত থেকে রপ্তানি হয় শস্য, মশলা, গুড় এবং চিনি।
- পরিসংখ্যান: ২০১৮ সালে এই পথে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫.৫৯ কোটি টাকা এবং রপ্তানি ছিল ৯৬.৫ লক্ষ টাকা।
উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ীরা
পিথোরাগড় বর্ডার ট্রেড অর্গানাইজেশনের সভাপতি জীবন সিং রোনকালি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সাল থেকে তিব্বতের তাকলাকোটের গুদামগুলোতে আমাদের অনেক পণ্য আটকে আছে। বাণিজ্য শুরু হলে ব্যবসায়ীরা বড়সড় লোকসানের হাত থেকে বাঁচবেন।” উত্তরাখণ্ডের মুখ্য সচিব আনন্দ বর্ধন জানিয়েছেন, বাণিজ্য পাস ইস্যু করা, কাস্টমস আধিকারিক মোতায়েন এবং ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরির কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
