উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuva Bharati) লিওনেল মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার (Lionel Messis Occasion) পর দুই মাস পার হয়ে গেলেও দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। গত ১৩ ডিসেম্বর আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে একঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটলেও, চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারণে নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের। রাজ্যের তৎকালীন পুলিশ ডিজি রাজীব কুমার টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও, বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত এবং দর্শকরা এখনও রিক্তহস্ত।
তদন্তের স্বার্থে আয়োজক শতদ্রু দত্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২২ কোটি টাকা ‘ফ্রিজ’ করেছে পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) আদালতে বার বার দর্শকদের টাকা ফেরতের পক্ষে সওয়াল করলেও আইনি জটিলতায় বিষয়টি আটকে আছে। শতদ্রু দত্ত (Shatadru Dutta) বর্তমানে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত এবং কার্যত ‘বেপাত্তা’। তাঁর পক্ষের দাবি, বিচারে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে টাকা ফেরত দিলে পরোক্ষভাবে অপরাধ স্বীকার করে নেওয়া হবে। এছাড়া টিকিটে ‘নো রিফান্ড’ পলিসির কথাও উল্লেখ করছেন তাঁরা।
অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে বিক্রি হওয়া প্রায় ৩৪,৫৭৬টি টিকিট থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি সংগৃহীত হয়েছিল। হাওড়ার অনিন্দিতা বেরার মতো অনেক দর্শকই ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। অনিন্দিতার কথায়, “আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে, তবুও স্মারক হিসেবে টিকিটটা রেখে দিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গড়েছিলেন। সিট-এর তদন্তে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের মতো পদস্থ কর্তারা থাকলেও, চার্জশিট পেশ না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বর্তমানে কমিটিও বিষয়টি ‘বিচারাধীন’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।
মেসি ফিরে গিয়েছেন, পুলিশ কর্তারা অবসরে গিয়েছেন, আয়োজক জামিন পেয়েছেন— মাঝপথে কেবল পড়ে আছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কয়েক কোটি টাকা আর একরাশ ফাঁকা প্রতিশ্রুতি।
