মণিশংকর ঠাকুর, তপন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে ‘ঘুঘুর বাসা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তপন ব্লকের একটি (Land Rip-off) ঘটনায় এমন অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, হজরতপুর অঞ্চলের রামনগর এলাকার ফাতেমা বেওয়াকে ২০১৯ সালে মৃত দেখিয়ে নিজেকে ওয়ারিশ দেখিয়ে ওই বৃদ্ধার প্রায় ১৯ শতক জমি বেআইনিভাবে নিজের স্ত্রীর নামে রেকর্ড করিয়েছেন তপন ব্লকের ৩ নম্বর হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ককর্মী আলতাফ মণ্ডল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাতেমার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। আলতাফের সঙ্গে কোনওরকম আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। কিন্তু ফাতেমাকে মৃত দেখিয়ে এবং নিজেকে ওয়ারিশ বানিয়ে ওই বৃদ্ধার জমি নিজের স্ত্রী আরঞ্জুমান সরকারের নামে নথিভুক্ত করান। ঘটনাটি এক মাস আগে জানতে পারে ফাতেমার পরিবারটি। মঙ্গলবার রাতে তপন থানায় জমি সংক্রান্ত প্রতারণা ও বেআইনি নথিভুক্তকরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার ফাতেমা বলেন, ‘অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। পরিকল্পিতভাবে আমার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা চলছে।’ অভিযুক্ত আলতাফের সাফাই, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে। আমি বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’ এই ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট ফাতেমার ছেলে মোবারক আলি বলেন, ‘ভুল করে এমন কাজ কখনও হতে পারে না। পুরো পরিকল্পনামাফিক মায়ের জমি হাতানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা জানার আগে যদি মায়ের কিছু হয়ে যেত, তাহলে ওই জমি উদ্ধারের লড়াইয়ের অধিকারই হারিয়ে ফেলতাম।’
জমি হস্তান্তর, নথিভুক্তি বা নামজারির কাজ হয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে। ফলে এমন কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যোগ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই বিষয়ে তপন ব্লকের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক বিপ্লবকুমার মণ্ডল বলেন, ‘পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জমির প্রকৃত মালিককে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ ঘটনা প্রসঙ্গে আরএসপির লোকাল কমিটির সম্পাদক মমিন মিয়াঁ বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে দালালচক্রের পাশাপাশি বড় আধিকারিক এবং শাসকদলের নেতারাও জড়িত থাকতে পারেন। সঠিক তদন্ত হলে এরকম আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসবে।’
