সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি: এক অনন্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের সাক্ষী থাকল কুশমণ্ডি (Kushmandi)। নিজেদের দেশ থেকে প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার দূরে এসে সিংহলি ভাষায় রামায়ণ নাটক মঞ্চস্থ করে আসর মাতিয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা। শনিবার রাতে কুশমণ্ডির এক অখ্যাত গ্রাম শব্দলপুরে ওই নাটক মঞ্চস্থ করেন তঁারা।
কুশমণ্ডির সঙ্গে রামের সরাসরি কোনও যোগাযোগের কথা কোথাও উল্লেখ না থাকলেও লোকমুখে প্রচলিত, বাল্মীকি রামায়ণের অরণ্যকাণ্ডে রামচন্দ্র যখন বনবাস কাটাচ্ছেন, তখন কোনও একসময় শব্দলপুর গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হরিরামপুর ব্লকের বৈরহাট্টা পঞ্চায়েতের শমীবৃক্ষের কোটরে নিজেদের ধনুর্বাণ লুকিয়ে রেখেছিলেন রাম-লক্ষ্মণ। এদিন শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের রাম গান শুনতে দুপুর থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় মানুষ। সিংহলের অধিবাসী হলেও নাটকের দলপতি ডঃ চান্দিনি কস্তুরী আরাছি বর্তমানে বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের অধ্যাপক। উপস্থিত ছিলেন তঁার স্বামী, সন্তানদের সঙ্গে। চান্দিনি জানালেন, নাটকের মূল অভিনেতা রাম চরিত্রে তাঁর ছেলে লাহিরু সাতসারা বর্তমানে শান্তিনিকেতনের অধিবাসী। স্বামী প্রেমজিৎ সিং মণিপুর নিবাসী। তিনিও বিশ্বভারতীর মণিপুরি নৃত্যের অধ্যাপক। চান্দিনি আরও জানান, শ্রীলঙ্কায় রামায়ণ নাটক হয় না বললেই চলে। ধ্রুপদি বা ক্লাসিক্যাল নৃত্যের শিল্পীরা কখনো-কখনো রামায়ণ নাটকের বিভিন্ন অংশ ধরে নৃত্যে এবং নাট্যে উপস্থাপন করেন।
এদিন তাঁরা যে রামায়ণ নাটক উপস্থাপন করেন, সেটি ছিল সিংহলি ভাষায়। শিল্পীদের পরনেও ছিল সিংহলি পোশাক। অধ্যাপক প্রেমজিৎ জানালেন, নাটকের বিভিন্ন চরিত্র করছেন সম্ভিতা গুপ্তা, মোহর দত্ত, আলপনা দাস, আকাশ দাস ও উমেশ সরকার প্রমুখ। সকলেই সিংহলি ভাষার বিশ্বভারতীর পড়ুয়া। নাটক দেখে বরুনা গ্রামের রামবনবাস পালার শিল্পী যতীন সরকার বলেন, ‘ভাষা বোঝা যায়নি। তবে গল্প জানা ছিল বলে বুঝতে অসুবিধে হয়নি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজবংশী ভাষায় রামবনবাস পালা উপস্থাপন করেন দিলালপুর গ্রামের শিল্পীরা। মঙ্গলচণ্ডী পালাগান উপস্থাপন করেন সদানন্দ দত্ত ও তাঁর সহশিল্পীরা। মুখোশ নৃত্য করে কচড়া গ্রামের ফাইনাল বর্মনের দল। নগেন্দ্রনাথ রায়ের রাজবংশী ভাষায় অনূদিত রামায়ণের দুই খণ্ড পাঠ করেন শিল্পী মনোরঞ্জন বর্মন। প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন লোকসংস্কৃতি গবেষক তথা মানিকচক কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গৌতম সরকার ও গবেষক অমলকান্তি রায়। গৌতম বলেন, ‘দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন মূল লক্ষ্য ছিল।’
