উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (WB Meeting Election 2026) পরবর্তী উত্তাল পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি স্পিকার বনাম তৃণমূল (TMC) সংঘাত চরম আকার ধারণ করল। মঙ্গলবার বিধানসভায় তৃণমূলের একটি চিঠি জমা নিতে স্পিকারের সচিবালয় সাফ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শাসকদলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) অভিযোগ করেন, সরকার এমন কিছু করতে চাইছে যার কোনো লিখিত রেকর্ড বা বিরোধিতা তারা নথিভুক্ত হতে দিতে চায় না।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল স্পিকারের উদ্দেশ্যে চিঠি জমা দিতে গেলে সচিব জানান, গতকাল একটি চিঠি গ্রহণের পর স্পিকার নির্দেশ দিয়েছেন যে, বিরোধীদের আর কোনো চিঠি গ্রহণ করা যাবে না। স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কোনো নথি বা চিঠি গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, “স্পিকার ব্যস্ত থাকলে বা না থাকলে কি আমরা কোনো চিঠিই জমা দিতে পারব না? এটি কী ধরনের নিয়ম?”
গতকাল যেভাবে চিঠিতে ‘কনটেন্ট নট ভেরিফায়েড’ স্ট্যাম্প মেরে গ্রহণ করা হয়েছিল, এদিন তেমনটা করতে চাইলেও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি তা নাকচ করে দেন। এরপরই তৃণমূল নেতৃত্ব টেবিলের ওপর চিঠি রেখে দিয়ে তার ভিডিও রেকর্ড করে প্রমাণ হিসেবে রেখে দেন। এখানেই শেষ নয়, কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, এই ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সচিবের ক্ষমতা খর্ব করে তাঁকে তড়িঘড়ি অন্য দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, সংসদীয় আইন অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় চিঠিরই শেষ কথা, সেখানে বিধায়কদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। স্পিকার যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন, তাই আইনত চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ প্রস্তুত করতেই এই চিঠি আগেভাগে জমা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির তাপস রায়ের দাবি, চিঠি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে মামলা ও সিআইডি তদন্ত চলায় সম্ভবত স্পিকার তা গ্রহণ করতে চাননি। বিধানসভার এই নজিরবিহীন ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
